১ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই ২৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিজাইডিং অফিসার

দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের বিষয়টি এখন বেশ আলোচিত। এর মধ্যে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার আলোচনায় সবার শীর্ষে ১ জন সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাই উপজেলার ২৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব বাগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। এমনকি আইনকে পাশ কাটিয়ে তিনি উপজেলার ১৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বেও রয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা প্রিজাইডিং হওয়ার শর্ত থাকলেও উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম এ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের দায়িত্বে থেকে কৌসলে ২৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিজাইডিংয়ের ক্ষমতা নেওয়ার বিষয়ে পুরো উপজেলায় এখন সমালোচনার ঝড় বইছে। তিনি ১৮টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৫টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা কমিটি নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন।

উপজেলার কয়েকটি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নাম প্রকাশ না করা শর্তে তারা ক্ষোভ করে বলেন, এ উপজেলায় প্রথম শ্রেণির ২০ জনের বেশি কর্মকর্তা থাকা সত্বেও একজন সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার উপজেলার ৪২টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা করার ক্ষমতার প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের চোখে আশ্চর্যের হলেও এ অফিসার মূলত এ রকমই বলে জানান স্থানীয় বেশ কয়েজন প্রধান শিক্ষক।

তারা জানান, বিগত ১৫ বছর তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা ও বিশেষ সখ্যতার বদৌলতে এ উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তখন বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন উনি একাই করতেন। স্কুল নির্বাচনে মাঠের অবস্থা ভালো এমন অন্তত দুই প্রার্থীর সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করে তাদের হুবহু ব্যালট-সিল ছাপিয়ে দিয়ে বিশ্বস্ত ভোটারদের মাধ্যমে বাক্সে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে পাশের ব্যবস্থা করেদিতেন এটাও আশ্চর্যের। স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ও তার দাপ্তরিক কাজে অসংখ্য আশ্চর্যের বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে আশ্চর্যের হলেও এ উপজেলার প্রধান শিক্ষকরা মোটেও আশ্চর্য নন। কারণ, তিনি অসম্ভব ক্ষমতাধর আর তিনি যে কোনও অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন সেটা এখানকার প্রধান শিক্ষকরা খুব ভালো করেই জানেন। তাছাড়া ওনার মতের বাইরে গেলে পরিণতি কি হতে পারে সেটাও প্রধান শিক্ষকদের অজানা নয়।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকরা অরও অভিযোগ করে বলেন, এই সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল স্যার বিগত ১৫ বছর এ উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে উনিই থাকতেন প্রিজাইডিং অফিসার। প্রিজাইডিং অফিসারের সম্মানীর নাম করে এবং বিভিন্ন অজুহাতে তিনি প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজারেরও অধিক টাকা হাতিয়ে নিতেন।

উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রিজাইডিং অফিসার আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে বেশ কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বিগত সময়ের স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন নিয়ে তার ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপিয়ে প্রার্থীর কাছে বিক্রিসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও উপজেলা বা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পাননি। কেননা, উনার হাত নাকি অনেক লম্বা।

এ বিষয়ে কথা হলে উপজেলার ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, মতলবের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নিজের পকেট ভারী করতে এই আশরাফুল সাহেবের কোনও বিকল্প নেই। উপজেলা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমার স্কুল থেকে অর্থলোপাটের পাঁয়তারার কারণে আমি ওনাকে এই উপজেলা থেকে অন্যত্র বদলি করালেও তদবির জোরে খুব দ্রুতই তিনি আবার এ উপজেলায় ফিরে আসেন। এ উপজেলা যেন ওনার টাকা বানানোর ফ্যাক্টরি।

কথা হলেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও ২৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিজাইডিং অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, আমি প্রিজাইডিং অফিসার হইতে পারি কি পারি না এবং আমি কোন গ্রেডের অফিসার কেউ না জানলে আইসা জাইনা যাক। আর এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিজাইডিংয়ের দায়িত্ব তো আমি নেই নাই, কর্তৃপক্ষ আমাকে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুসুম মনি জানান, প্রথমদিকে তাকে অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির প্রিজাইডিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গিয়েছিল কিন্তু পরে আর দেওয়া হয়নি।