চোটপাট দেখিয়ে এখন কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইলেন ভিনিসিয়ুস

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে সাম্প্রতিক এল ক্লাসিকোয় বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার সময় আচরণ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ম্যাচে বদলি হওয়ার পর তার রাগান্বিত প্রতিক্রিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ঘটনার কয়েকদিন পর ভিনিসিয়ুস নিজের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে ভক্ত, সতীর্থ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

গত রোববার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে ৭২ মিনিটে জাবি আলোনসো ভিনিসিয়ুসকে তুলে নেন, তার জায়গায় নামানো হয় রদ্রিগোকে। ক্যামেরায় ধরা পড়ে, সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ভিনিসিয়ুস বারবার বলছিলেন, “আমি? আমি? মিস্টার, মিস্টার! আমি?” মাঠ ছাড়ার সময় তিনি বেঞ্চে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান। পরে মাঠের বাইরে বলেছিলেন, “সব সময় আমাকেই, আমি দল ছাড়ছি, ভালো হয় আমি চলে যাই।”

ঘটনাটি রিয়ালের জয়ের আনন্দ কিছুটা ম্লান করে দেয়। ক্লাবের ভেতর-বাইরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ঝড় ওঠে।

বুধবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ভিনিসিয়ুস লেখেন, “আজ আমি এল ক্লাসিকোয় বদলি হওয়ার সময়ের প্রতিক্রিয়ার জন্য সকল রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তের কাছে ক্ষমা চাইছি। যেমনটি আমি আজ অনুশীলনের সময় ব্যক্তিগতভাবে সতীর্থ, ক্লাব ও সভাপতির কাছেও ক্ষমা চেয়েছি।” তিনি আরও লেখেন, “কখনো কখনো আমার আবেগ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। আমি সব সময় জিততে চাই এবং দলের জন্য লড়াই করতে চাই। আমার প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা আসে এই ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা থেকে, যা আমার জীবনের অংশ হয়ে গেছে।”

বিবৃতির শেষ অংশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আমি প্রতিটি মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদের সাফল্যের জন্য লড়ে যাব—যেমনটা প্রথম দিন থেকেই করে আসছি।”

ঘটনার পর রিয়াল মাদ্রিদ ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না বলে জানিয়েছে ইএসপিএন। ক্লাবের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে দেখা হবে।

ম্যাচ শেষে কোচ জাবি আলোনসো বলেন, “আমরা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব। আমি এখন মূল বিষয়ে মনোযোগ দিতে চাই। ভিনি দলের জন্য অনেক অবদান রেখেছে।”

এই মৌসুমে আলোনসো তিন ম্যাচে ভিনিসিয়ুসকে শুরুর একাদশে রাখেননি, আবার তার চুক্তি নবায়নের আলোচনাও এখন স্থগিত। এমন পরিস্থিতিতে এল ক্লাসিকোয় এই আচরণ ক্লাব ও খেলোয়াড়ের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শেষ দিকে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পাঁচজন খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়, যার একজন ছিলেন ভিনিসিয়ুস। রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রেই লুনিনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জয়ে শেষ হলেও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।