ব্রাজিলের কাছে হেরে আর্জেন্টিনার কান্না, ফ্ল্যামেঙ্গো উড়ছে

আর্জেন্টিনার অ্যাভেলানেদার ‘সিলিন্দ্রো’ স্টেডিয়াম আলো ঝলমলে আতশবাজিতে রঙিন হয়েছিল। সমর্থকদের তুমুল গর্জন, পতাকা, ব্যানার—সবই যেন জানিয়ে দিচ্ছিল, রেসিং ক্লাব ইতিহাস গড়বে দক্ষিণ আমেরিকার সেরা ক্লাব প্রতিযোগিতা কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালে উঠে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামোঙ্গের ঠান্ডা মাথার ফুটবলে। আগের লেগে মারাকানায় ০–১ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টাইন ক্লাবটি ঘরের মাঠেও পারেনি প্রতিপক্ষ ফ্লামেঙ্গোকে হারাতে। গোলশূন্য ড্র মানেই বিদায়।

গুস্তাভো কস্তাসের দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছে—কিন্তু লড়াইটা হয়েছে যেন শুধু হৃদয়ের জোরে, মাথার খেলার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। আক্রমণে আক্রমণ, একের পর এক ক্রস, কিন্তু প্রতিবারই সামনে দাঁড়িয়েছেন ফ্লামেঙ্গোর গোলরক্ষক আগুস্তিন রসি। প্রাক্তন বোকা জুনিয়র্স গোলকিপার যেন দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। টমাস কোনেচনি কিংবা মারাভিয়া মার্তিনেস—কেউই সেই দেয়ালে ভাঙন ধরাতে পারেননি।

দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সান্তিয়াগো সোসা চোটের কারণে ছিলেন না। তার বদলি হিসেবে নামা ব্রুনো জুকুলিনি চেষ্টা করলেও মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে পারেননি। বরং ফ্লামেঙ্গোর প্রতিটি পাস, গতি আর নিখুঁত সমন্বয় দেখিয়েছে কেন তারা দক্ষিণ আমেরিকার সেরা ক্লাবগুলোর একটি।

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্লামেঙ্গো ১০ জনে নেমে আসে—ইকুয়েডরিয়ান ফরোয়ার্ড গনজালো প্লাতার লাল কার্ডে। কিন্তু তাতেও রেসিংয়ের ভাগ্য বদলায়নি। বলের দখল থাকলেও আইডিয়ার অভাব ছিল স্পষ্ট। লুসিয়ানো ভিয়েত্তো নামার পর কিছুটা আশা জাগালেও শেষ মুহূর্তে তার শটও ঠেকিয়ে দেন রসি।

শেষ বাঁশি বাজতেই দেখা গেল দু’টি ছবি—একদিকে রসির উল্লাসে ভাসা ব্রাজিলিয়ানরা, অন্যদিকে কান্নায় ভেঙে পড়া আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা। 

এই ব্যর্থতার সঙ্গে শেষ হলো আর্জেন্টাইন ক্লাবগুলোর এবারের কোপা লিবার্তাদোরেস অভিযান। রিভার প্লেট, বোকা জুনিয়র্স, এস্তুদিয়ানতেস—সবাই আগেই বাদ। এবার শেষ আশাটুকুও হারিয়ে গেল রেসিংয়ের সঙ্গে।

ফাইনালে এখন ফ্লামেঙ্গো মুখোমুখি হবে ইকুয়েডরের ক্লাব ইন্দিপেনদিয়েন্তে দেল ভায়ে-র।