জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সুদানে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সুদানের উত্তর দারফুরের এল-ফাশার শহরে ভয়াবহ গণহত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সহিংসতা থামাতে হবে, অবরোধ ও শত্রুতা অবিলম্বে শেষ করতে হবে।’
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর নেতা মোহাম্মদ হামদান ডাগ্লো এল-ফাশার শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর ফলে দুই দশক আগের দারফুরে ঘটে যাওয়া নৃশংস সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্মৃতি আবারও ফিরে এসেছে।
জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, শহরের একটি হাসপাতাল একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা অপহৃত হয়েছেন, রোগীদের উপর গুলি চালানো হয়েছে এবং এতে অন্তত ৪৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
গুতেরেস বলেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। তিনি যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি মানবিক সহায়তার পথ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। বর্তমানে পশ্চিম সুদানের অধিকাংশ অঞ্চল র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের নিয়ন্ত্রণে, আর সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুদান এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এল-ফাশারে রবিবার থেকে অন্তত ৩৩ হাজার মানুষ শহর ছেড়েছেন, কিন্তু এখনো প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার বাসিন্দা সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। যোগাযোগব্যবস্থা ও রসদ সরবরাহের পথ প্রায় বিচ্ছিন্ন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যেই ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘ বলছে, এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষুধা ও শরণার্থী সংকটগুলোর একটি।
যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তি শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও সেনাবাহিনী–সমর্থিত সরকারের অনমনীয় অবস্থানের কারণে সমাধান প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে আছে।
গুতেরেস বলেন, ‘এই যুদ্ধ শুধু একটি জাতিকেই নয়, সমগ্র মানবতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখনই শান্তির পথে ফেরার সময়।’