সৌদিতে সংঘবদ্ধ চক্রের মুক্তিপণ আদায়ের কৌশল

সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দুই যুবককে সেখানে অপহরণ করা হলে পরে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান তারা। এ ঘটনায় হবিগঞ্জের সৌদিপ্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীরা হলেন– মাধবপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের ফরিদ চৌধুরীর ছেলে শাকিল চৌধুরী ও শাহজাহান খানের ছেলে কাসেম খান।

স্বজনরা জানান, শাকিল ও কাসেম কাজ উপলক্ষে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। ২৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন সকালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনে স্বজনদের জানানো হয়, শাকিল ও কাসেমকে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের মুক্ত করতে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ওই ব্যক্তি। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা না দিলে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অপহরণকারীরা ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। নিরুপায় হয়ে তাদের পরিবার অনেক কষ্টে ৪ লাখ টাকা জোগাড় করে।

অপহরণকারীদের কথামতো পৃথক বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। যে দুটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয় তার একটি চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের আসামপাড়া বাজারের বকুল মিয়ার এজেন্ট নম্বর। অন্যটি ঢাকার সায়েদাবাদের এক ব্যবসায়ীর।

কাসেমের চাচাতো ভাই বাছির মিয়া জানান, অপহরণকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছে ৪ লাখ টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গত ২৫ অক্টোবর ভোরে শাকিল ও কাসেমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্যরা চুনারুঘাটের বকুল মিয়ার কাছে গিয়ে স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠানো টাকা ফেরত পান। তবে ঢাকার নম্বরে পাঠানো অর্থ এখনও ফেরত পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাসেমের ভাই ফয়েজ মিয়া মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শাকিলের বাবা ফরিদ চৌধুরী বলেন, ‘ছেলেকে মুক্ত করেও শান্তি পাচ্ছি না। এখনও ভয় হয়– আবার কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে!’

হবিগঞ্জ জজকোর্টের আইনজীবী নরেশ পাল বলেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশিকে অপহরণ বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করা ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর ৭ ও ১০ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশে থাকা সহযোগীদের বিরুদ্ধেও মামলা করা যায়।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘প্রবাসী সহায়তা সেল’ রয়েছে, যেখানে নিখোঁজ বা প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের পরিবার অভিযোগ জানাতে পারে।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবপুর থানার পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। অপহরণকারীদের দেশে থাকা সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।