আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করি না

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা মালিকদের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এবার কথা বলেছেন, সরকারের আন্তর্জাতিক বিষয়-সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশের চেম্বার অব কমার্স বা অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। সবাই আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সবার কাছে আছে। কিন্তু যে কাজটা আমরা করি না, সেটা হলো সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমাদের এখানে সৌজন্য সাক্ষাতের অর্থ হলো, একটা ফুল দিয়ে ছবি তুলে চলে যাওয়া। আমরা ওভাবে সাক্ষাৎ করি না।’

এর আগে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু পোশাকশিল্প খাতের চলমান সমস্যা ও সংকট-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, চার মাস ধরে পোশাকশিল্পের নীতি প্রণয়ন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা এবং চলমান সংকট মোকাবিলা বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সাক্ষাৎ হয়নি।

বিজিএমইএর সভাপতির এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং উপ-প্রেসসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৮ তারিখ প্রধান উপদেষ্টাসহ পুরো উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিজিএমইএ। বৈঠকে আরএমজির জন্য ম্যানমেড ফাইবার আমদানিতে বিশেষ সুবিধা, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ, ব্যাংকের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট করাসহ সরকারের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব দেন বিজিএমইএ নেতারা।

তাদের মন্তব্যের প্রসঙ্গে বিজিএমইএ জানিয়েছে, ওই বৈঠক ছিল এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত একটি সাধারণ পর্যালোচনা সভা, যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এটি কোনোভাবেই বিজিএমইএর বা পোশাকশিল্পের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় কোনো বৈঠক ছিল না। একটি সাধারণ সভায় উপস্থিত থাকা এবং শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ পাওয়ার এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি গভীর উদ্বেগ ও হতাশা থেকে বলেছেন, ‘আমরা (বিজিএমইএ) চার মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চেয়েও পাইনি। অথচ স্টারলিংকের কোম্পানি স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলে তার সঙ্গে দেখা করা হয়। যে কোম্পানি ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায় অথচ ৪০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার সময় পাওয়া যায় না।’

দেশের বৃহত্তর রপ্তানি খাত ও শিল্পের স্বার্থে বিজিএমইএ সভাপতি তার উদ্বেগে প্রকাশ করেছেন। বিজিএমইএ আশা করে, ভবিষ্যতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও উপ-প্রেসসচিব দেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী খাত সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখবেন।