মন্দাভাবে কেটে গেল দেশের শেয়ারবাজারের আরও একটি সপ্তাহ। ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এ সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ২৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ হারিয়ে ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এ ছাড়া অন্যান্য সূচকও পয়েন্ট হারিয়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একই পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহে বজায় থাকবে বলে তারা মনে করেন।
তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল বৃহস্পতিবার অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। এদিন যে কয়টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে, তার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশিসংখ্যকের দর বেড়েছে। এতে ডিএসইর সব সূচকও বেড়েছে। তবে শেয়ারবাজারটিতে সার্বিক লেনদেনে ভাটা পড়েছে।
বিদায়ী সপ্তাহে প্রধান মূল্য সূচকের পাশাপাশি অন্যান্য সূচকও পয়েন্ট হারিয়েছে। এর মধ্যে বাছাই করা ৩০ কোম্পানির ডিএসই৩০ সূচক ১০ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ; শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৫ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ হারিয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মার্কেট ডিএসএমইএক্স (ডিএসই-এসএমই ইনটেক্স) ৩৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট হারিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহ জুড়ে বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষণ ও সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগে মনোযোগ বেশি লক্ষ করা গেছে। যার ফলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের সীমিত পরিসরে অংশগ্রহণে দেখা গেছে।
তবে বাজার মন্দাভাব থাকলেও ২৬ অক্টোবরের আগের সপ্তাহের তুলনায় গড় টার্নওভার ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহ জুড়ে লেনদেনে অংশগ্রহণ করা খাতগুলোর মধ্যে ১৩টি খাতের শেয়ার ও ইউনিটের বিনিয়োগকারীরা লাভবান হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য খাত হলো ভ্রমণ, সিরামিক ও পরিষেবা। অন্যদিকে পাঁচটি খাতের বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ¦ালানি এবং টেলিকম খাত অন্যতম।
এ সপ্তাহে দাম এবং টার্নওভার বৃদ্ধির শীর্ষে ছিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং এবং শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানির শেয়ার ছিল স্টাইলক্রাফট।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, যেহেতু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বাজারের তারল্য বজায় রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে, ফলে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবে তারা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। আগামী সপ্তাহে বাজার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গতকাল সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন ডিএসই ও সিএসইতে আগের কার্যদিবসের চেয়ে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা কমেছে। তবে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেন শেষে তা পতনে রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ডিএসইএক্স সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেনের শুরু হয়। আর লেনদেনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। তবে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে লেনদেন অনেক কমে গেছে।
ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ২৯ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ১২২ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮২ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৪ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
ডিএসইতে ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ২৪১টি কোম্পানির, কমেছে ৮১টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭২টির।
এদিন ডিএসইতে ৪৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫০৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ৪ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৮১১ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ২৮৬ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বেড়ে ৮৯৮ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ৩০ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৬৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইতে ১৯৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ১০৯টি কোম্পানির, কমেছে ৫৮টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩২টির।
সিএসইতে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।