ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মণিপুরে দুই বছর পেরিয়েও জাতিগত সংঘর্ষে ঘরছাড়া হওয়া হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন। রাজ্য সরকার এখনও তাদের জন্য স্থায়ী আবাসন বা নিয়মিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়নি। পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ ডিসেম্বরের মধ্যে সব অস্থায়ী ত্রাণ শিবির বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে।
মে ২০২৩-এ মৈতৈ সম্প্রদায়ের উপজাতি স্বীকৃতির দাবি নিয়ে খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের প্রতিবাদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এই দাঙ্গায় কমপক্ষে ২৬০ জন নিহত হন এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
পরবর্তী দুই বছরে সরকার পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেও তা কার্যত বাস্তবায়ন হয়নি। অস্থায়ী শিবিরে কোনো স্থায়ী জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় বাসিন্দাদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। জুলাইয়ে তখনকার মুখ্য সচিব প্রশান্ত সিং শিবির বন্ধের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।
সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুনর্বাসনের জন্য ৭ হাজার নতুন ঘর নির্মাণের ঘোষণা দিলেও স্থান ও বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনও স্পষ্ট নয়। মণিপুরে মৈতৈরা প্রধানত ইম্ফল উপত্যকায়, আর কুকিরা পার্বত্য এলাকায় বসবাস করছেন। দুই সম্প্রদায়কে আলাদা রাখার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত পাহারা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক মানচিত্র অক্ষুণ্ণ রাখতে বাস্তুচ্যুতদের মূল বসতবাড়িতে পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি। অনেক কুকি পরিবার স্বায়ত্তশাসন চান, কিন্তু মৈতৈরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তাদের অঞ্চলে ফিরে যেতে। উভয় সম্প্রদায়ই আশা করছেন, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হবে যাতে মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পারে।
সরকারি কর্মকর্তারা পুনর্বাসন পরিকল্পনা চালু আছে দাবি করলেও হাজার হাজার মানুষ এখনও শিবিরে বসবাস করছেন। কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার কারণে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—ডিসেম্বরে সব শিবির বন্ধ করা সম্ভব হবে কি না।