বগুড়ায় টানা ১৩ ঘণ্টা বৃষ্টি, ক্ষতির মুখে চাষিরা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত বুধবার খোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে বগুড়ার শেরপুরে রোপা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। ফলন ঘরে তোলার আগমুহূর্তে আধাপাকা ধান শুয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অন্যদিকে গত ১৫ দিন আগে বপন করা আগাম জাতের ভুট্টাক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এই বৃষ্টিপাতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষিরাও।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত শুধু শেরপুর উপজেলাতেই ২৫০ হেক্টর জমির ধান নুয়ে পড়েছে। পানিয়ে তলিয়ে আছে ১০০ হেক্টর ভুট্টার জমি। ফসলের ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। চলতি মৌসুমে শেরপুর উপজেলা মোট ২২ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ  হয়েছে। ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

শনিবার (১ নভেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, হলুদ হয়ে আসা ধানের খেতগুলো বৃষ্টিতে মাটিতে লুটিয়ে আছে। বিঘার পর বিঘা জমিতে ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা হওয়া ভুট্টা গাছ বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। জমির ধান শুয়ে পড়ায় ফলন ও গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকেরা।

উপজেলার আমইন এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর বলেন, পাঁচ একর জমিতে আমন চাষ করেছিলাম। অনেক কষ্ট করে আবাদ করেছি। এখন যখন কাটার সময়, তখনই বৃষ্টি এসে সব নষ্ট করে দিল। জমিতে পানি জমে শীষ ভিজে রয়েছে, ফলন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে। যে ধানগাছ শুয়ে পড়েছে, তাতে কয়েক দিনের মধ্যেই পোকা ধরবে; ধান চিটা হয়ে যাবে। এত পরিশ্রমের ফসল এভাবে নষ্ট হয়ে গেল ভাবতেই পারছি না।

উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ভুট্টাচাষী শহিদুল ইসলাম শাওন বলেন, ১৫ দিন আগে ১৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। কৃষান, বীজ সার মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। এবার ভালো ফলনের আশা ছিল। কিন্তু ২ দিনের বৃষ্টিতে সব ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আসলে ভুট্টা চাষের ৩ ভাগের ২ ভাগ খরচ শুরুতেই হয়। এ ক্ষতি কিভাবে কেটে উঠব আল্লাহই ভালো জানেন।

আলতাদিঘী এলাকার মাদরাসা শিক্ষক হাতেম আলী বলেন, সাধারণত এই সময় আবহাওয়া স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু এবারের আকস্মিক বৃষ্টিতে আমার ৫ বিঘা আলুর ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেল।

শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জুলফিকার হায়দার বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি—যেসব জমিতে ধান শুয়ে পড়েছে, সেগুলো গোছা করে বেঁধে দিতে। এতে ক্ষতি কিছুটা কমবে। আর যেসব ধান পেঁকে গেছে সেগুলো কেটে ফেলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ভুট্টার জমিতে পানি বেঁধে গেছে সেসব জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করতে হবে। প্রয়োজন অনুপাতে আধা কাঁচা ধানে বিষ প্রয়োগ করবে যাতে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।