হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি ও ফিজিওথেরাপি

প্রতিনিয়ত আমরা কিছু না কিছু জয়েন্টে আঘাত পেয়ে থাকি। তবে হাঁটুর আঘাত আমাদের বেশি হয়ে থাকে। তার অনেক ধরনের কারণ রয়েছে। তার আগে জেনে আসি হাঁটু বলতে আমরা কী বুঝি। হাঁটু হলো মানব দেহের সবচেয়ে বেশি ভার বহনকারী জয়েন্ট। অর্থাৎ আমাদের শরীরের ওজন বহন করে থাকে হাঁটু। হাঁটুতে সামনে-পেছনে  দুটো লিগামেন্ট ও গবহরংপঁং রয়েছে। প্রত্যেকটি একটা কাজ করে থাকে। হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি বিশেষ করে স্পোর্টস-এ বেশি হয়ে থাকে অর্থাৎ যারা খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত তাদের এই ইনজুরি বেশি হয়ে থাকে। যেমন ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল এবং ট্রাফিক অ্যাক্সিডেন্ট-এ বেশি হয়ে থাকে। যাদের হাঁটুর ওপরে এবং নিচের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে বা শুকিয়ে যায় তাদেরও লিগামেন্ট ইনজুরি হয়ে থাকে। লিগামেন্ট ইনজুরিকে আমরা ৩ ভাগে কাজ করে থাকি

টাইপ-১:  টাইপ-১ এ পেশেন্টের লিগামেন্ট ফাইবারগুলো

আংশিক বা পুরোপুরি ছেঁড়ে না। লিগামেন্ট ফাইবারগুলো প্রসারিত হবে। হালকা ব্যথা, হালকা ফোলা, হালকা শক্ত হয়ে যাবে। হাঁটাচলা বা নড়াচড়া প্রায় স্বাভাবিক থাকে তবে হাঁটুতে অস্বস্তি থাকতে পারে।

টাইপ-২: টাইপ-২ এ লিগামেন্ট ফাইবার আংশিক ছিঁড়ে যাবে। পুরোপুরি ফাইবার ছিঁড়বে না তবে টাইপ-১ পেশেন্ট ২ বেশি সিরিয়াস।

টাইপ-২ এর উপসর্গ। মাঝারি ব্যথা- ইনজুরির কিছু সময় পর ফোলা বাড়তে পারে। জয়েন্টের স্ট্যাবিলিটি কমে যাবে। জয়েন্টের মুভমেন্ট কমে যাবে।

টাইপ-৩ বা টাইপ-৩.ইনজুরিতে সম্পূর্ণ লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এতে লিগামেন্ট দুই প্রান্ত একে অপর থেকে ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং হাঁটুর স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়।

 টাইপ-৩ এর উপসর্গ  হাঁটতে গেলে পপ শব্দ অনুভব করা

 তীব্র ব্যথা অনুভব করার সঙ্গে Swelling হবে।

 হাঁটুতে Instability বা buckle হয়ে যাওয়া।

 হাঁটতে গেলে জয়েন্ট থেকে হাড় সামনে চলে যাওয়া।

লিগামেন্ট ইনজুরি

Physically Assessment  করবে।

 হাঁটুর জয়েন্টে ব্যথার ধরন

 Swelling বা ফুলা আছে কিনা, তা হাঁটতে গেলে পায়ের স্থিতিশীলতা কেমন  মাংসপেশির শক্তি আছে কি না  কিছু স্পেশাল টেষ্ট এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যেমন ADT (Anterior drawer test)  PDT, (Posterior Drawer test) n Imvestigation  n MRI n Ultra Sonogram  হচ্ছে লিগামেন্ট Injury কনফার্ম করার জন্য gold standard  ইমেজিং টেস্ট রিহাব কেন প্রয়োজন

কারণহাঁটুর স্টাবিলিটি ফিরিয়ে আনাপেশির শক্তি ও ভারসাম্য উন্নত করাহাঁটুর গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ব্যথা ও ফোলা কমানোখেলার বা কাজের উপযোগী করে তোলা  সার্জারি লিগামেন্ট ঠিক করে, কিন্তু রিহাব লিগামেন্টকে শক্ত করে।

অপারেশনের পর করণীয়

লিগামেন্ট অপারেশনের পর দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে সঠিক বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন। এ ছাড়া কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন যেমন ভারী কাজ পরিহার করা, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পা উঁচু করে রাখা এবং সঠিক মুভমেন্ট করা। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। জীবনযাত্রার পরিবর্তন আনা।