চীন এখন প্রায় ছয় দশমিক দুই ট্রিলিয়ন ডলার বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশই ইউয়ানে নিষ্পত্তি করছে, ২০২২ সালে যা ছিল ২০ শতাংশ। মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এটি বেইজিংয়ের দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৮–০৯ অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়ে মার্কিন সরকারের অতিমুদ্রা ছাপানো চীনের বিশাল ডলার রিজার্ভকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বেইজিং ধীরে ধীরে ইউয়ানের বৈশ্বিক ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করে।
বর্তমানে চীনা পণ্য বাণিজ্যের ৩০ শতাংশ এবং সকল সীমান্তপার বাণিজ্যের ৫৩ শতাংশ ইউয়ানে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা গত বছর প্রথমবারের মতো ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী আন্তঃব্যাংক নেটওয়ার্ক সুইফটের ডেটা অনুযায়ী, ইউয়ান সাময়িকভাবে ইউরোর ওপরে উঠলেও ডলারের ৮২ শতাংশের তুলনায় এখনও অনেক পিছিয়ে।
চীনের বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি ডলারের ক্ষয় চীনের লক্ষ্য নয়, বরং প্রধান উদ্দেশ্য আঞ্চলিকীকরণ— এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানো। রাশিয়া ও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেইজিং ইউয়ান-ভিত্তিক ঋণ ও জ্বালানি চুক্তি সম্প্রসারণ করেছে।
তবে ইউয়ানের বৈশ্বিক উত্থান এখনও সীমাবদ্ধ। বেইজিং কঠোর মূলধন নিয়ন্ত্রণ ইউয়ানের পূর্ণ বিনিময়যোগ্যতা সীমিত করছে। নিয়ন্ত্রণ না কমালে ইউয়ান ডলারের মতো বৈশ্বিক রিজার্ভ বা বিনিয়োগমূলক মুদ্রা হয়ে উঠতে পারবে না। এছাড়াও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা যেমন দেশীয় চাহিদা কম থাকা,সম্পত্তি সংকট এবং রপ্তানি নির্ভরতা বৃদ্ধ ইউয়ান-ভিত্তিক বাণিজ্য বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এলকানো রয়্যাল ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো মিগুয়েল ওটেরো-ইগলেসিয়াস বলেছেন,'বেইজিংয়ের কৌশল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ডের নীতি অনুসরণ করছে। ইউয়ান বাণিজ্যে বৃদ্ধি পাবে — তবে বৈশ্বিক আর্থিক শক্তি হিসেবে নয়'