নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এক বিবৃতিতে বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় নির্বাচন আবারও একটা সংকটের মধ্যে পড়ল। অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো মোটাদাগে একটা ঐকমত্যে পৌঁছেছিল এবং সেই অনুযায়ী জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি আমরা। কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এমন কিছু জায়গায় পরিবর্তন এনেছে যা অনেক রাজনৈতিক দলের পক্ষে গ্রহণ করা সম্ভব না। বিশেষ করে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নেবার পর যেভাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ অকার্যকর হয়ে যাবার প্রস্তাব করা হয়েছে তা যে বিএনপি গ্রহণ করবে না, তা পরিষ্কার।
তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্টসহ কীভাবে গণভোট আয়োজন করবে সরকার সেই ব্যাপারে আমরা আগেই প্রশ্ন তুলেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে এই ডিসেন্টিং অপিনিয়নসহ একটা প্যাকেজ আকারে গণভোটে যাওয়ার ব্যাপারে দলগুলোর মধ্যে একটা ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও সেই ভিত্তিতেই দলগুলোর সাথে আলোচনা শেষ করে সনদ প্রস্তুত করেছে। বলে রাখা ভালো, আমার দল নাগরিক ঐক্য এবং জোট গণতন্ত্র মঞ্চ অনেক ক্ষেত্রেই বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ গুলোর সাথে একমত নই। সকল রাজনৈতিক দল বা জোট সব বিষয়ে একমত হবে, সেটা প্রত্যাশা করাও অবান্তর। কিন্তু পদ্ধতিগত ভাবে ঐকমত্য কমিশন যে ভিত্তিতে আলোচনা করেছে, স্বাক্ষর পরবর্তী সময়ে দলগুলোর সাথে আলোচনা ছাড়াই সেখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন শেষ মূহুর্তে এসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরির পথ সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে সকল দায় দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে ছেড়ে দিয়ে সাত দিনের সময় বেঁধে (আল্টিমেটাম) দিয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যেখানে কমিশন গঠন করে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে সবগুলো রাজনৈতিক দলকে নিয়ে বসেও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা যায়নি, সেখানে দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌছবে, এই প্রত্যাশা করা অবান্তর। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে সরকার সাত দিন পর নিজেদের মত করে সিদ্ধান্ত নেবে। তাহলে এতদিন ধরে সেশনের পর সেশন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
মান্না বলেন, আমি মনে করি, সরকার কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়াতে পারে না। সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারকে রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামির সাথে আলাদা ভাবে আলোচনা করে সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং সরকার তাদের অবস্থান থেকে সরে আসায় যেসব বিষয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ এবং অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়গুলো সরকারকেই সমাধান করতে হবে। অন্যথায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংস্কার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। বাংলাদেশ নতুন করে একটি বড় সংকটের দিকে ধাবিত হবে।