প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি ডিজিটাল সেবায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজশাহীতে দিনব্যাপী ‘অ্যাক্সেসিবল ডিজিটাল পরিষেবা ও পঠন উপকরণের প্রচার কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সে এ কর্মশালার আয়োজন করে সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্ট (সিডিডি) ও অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সমতা নারী কল্যাণ সংস্থা।
কর্মশালায় রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলার ১০০ জন প্রতিবন্ধী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে কাজের সহায়তা হিসেবে ১০টি স্ব-সহায়ক দলের প্রতিনিধিদের হাতে ৫০টি স্মার্টফোন হস্তান্তর করা হয়। কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিবন্ধীদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।
তিনি বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকারি ডিজিটাল সেবাসমূহ যেন তাদের জন্য আরও সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, সেটাই এখন সময়ের দাবি। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আমরা এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করছি। প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ সুগম হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি সমাজ, যেখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কারো সম্ভাবনাকে রুদ্ধ করতে পারবে না।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এটুআই-এর যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রশেদুল মান্নাফ কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. বায়েজীদ হোসেন ওয়ারেছী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. রোকনুজ্জামান প্রমুখ।
কর্মশালায় ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা উদ্যোগ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এটুআই-এর পরামর্শক (অ্যাক্সেসিবিলিটি) ভাস্কর ভট্টাচার্য। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবাগুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তা, প্রযুক্তিগত সমাধান এবং বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
কর্মশালার সঞ্চালনা করেন সিডিডি’র সহকারী পরিচালক আনিকা রহমান লিপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমতা নারী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “রাজশাহী অঞ্চলে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই কর্মশালার মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। একসঙ্গে কাজ করলে ফলাফল আরও ইতিবাচক হবে।”
অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্ক্রিন রিডার বা ভয়েস কমান্ড সুবিধা বাড়ানো, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ভিডিও সংযোজন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে সহায়ক কর্মী নিয়োগের সুপারিশ করেন তারা।