মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বড় বোয়ালী মৌজায় ২৫ শতাংশ পৈতৃক সম্পত্তি স্থানীয় ভূমি অফিসের এক সহকারীর যোগসাজশে অন্যের নামে লিজ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নালিশী ওই ভূমি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টের দেয়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই লিজ নবায়ন করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, তার পিতা মৃত আব্দুল শেখের নামে এস এ খতিয়ান নং ৪৪, দাগ নং ২৬৫ এবং আর এস খতিয়ান নং ১৫৭, দাগ নং ৩৪৩ -এর আওতাভুক্ত ২৫ শতাংশ ভূমি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমির দখলে রয়েছেন। কিন্তু একই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের শেখের পুত্র হিরু (৪৯), নজরুল ইসলাম (৩৮) ও লিটনের (৫৩) সঙ্গে ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ১৫৭০/২০২৪, তারিখ: ১৯ নভেম্বর ২০২৪) দাখিল করেন।
শুনানি শেষে আদালত ওই বছরের ১৯ নভেম্বর বিবাদীদের বিরুদ্ধে রুল জারি করে সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের কপি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যথাসময়ে প্রদান করা হয় বলেও জানান জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ১৮ মার্চ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশের প্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর আলম ও হিরু মিয়াগংএর উপস্থিতিতে লিজ নবায়ন না করার মৌখিক আদেশ দেন। কিন্তু, উক্ত গিয়াস উদ্দিন তা অমান্য করে ২৩/০৬/২০২৫ তারিখে লিজ নবায়ন করেন। নালিশী দাগের ভূমি সংক্রান্ত রিটের আদেশ কপি পাওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট অফিসের কতিপয় গিয়াস উদ্দিন সম্পত্তি প্রতিপক্ষের লোকজনের নামে লিজ দেয়ার অপচেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের সেই নির্দেশ অমান্য করে ভূমি অফিসের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে নালিশী ভূমিটি প্রতিপক্ষের নামে লিজ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়। এতে বিশেষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে শিবালয় উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ভিপি সহকারী মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ২৩ জুন গিয়াস উদ্দিনের প্রত্যক্ষ মদদে নালিশী ভূমি প্রতিপক্ষের নামে লিজ নবায়নের ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভিপি সহকারী গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ ছাড়া কথা বলা নিষেধ আছে। তবে তিনি দাবি করেন, আদালতের কোনো আদেশের কপি আমি পাইনি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম দেশ রূপান্তরকে জানান, যার নামে ডিসিআর দেয়া হয়েছে তাকে ডাকা হবে। ডিসিআর পেলেই সে ভোগদখলে যেতে পারবে বিষটি এমন না। এটা বাতিল করারও ক্ষমতা আমাদের আছে।