চট্টগ্রামে ঝুলে থাকা ৬ আসনে কারা হচ্ছেন ধানের শীষের কান্ডারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে ১০ আসনে নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে অবশিষ্ট ৬ আসনে ধানের শীষের কা-ারি কারা হচ্ছেন এ নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

বিএনপির মনোনয়নের অপেক্ষায় ঝুলে থাকা ৬টি আসনের মধ্যে ২টি রয়েছে চট্টগ্রাম নগরীতে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের নাম মহাসচিব ঘোষণা করলেও পরবর্তী সময়ে তা স্থগিত রাখা হয়। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একাধিকবার নির্বাচন করলেও এবার আসনটিতে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি। আমীর খসরু মাহমুদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসন থেকে।

নগরীর ঝুলে থাকা আসন ২টিতে কাদের হাতে ধানের শীষ তুলে দেওয়া হবেÑ তা নিয়ে নানা রকম হিসাব মেলাচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র সাঈদ আল নোমান চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেনÑ বেশ কিছুদিন ধরে এমনটিই চাউর হয়েছিল নেতাকর্মীদের মধ্যে। কিন্তু ওই আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সাঈদ নোমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তবে তাকে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও রয়েছে নেতাকর্মীদের আলোচনায়। ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নামও ওই আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম জেলা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে কোতোয়ালি আসন থেকে বর্তমান সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দলের জাতীয় কমিটির সদস্য শামসুল আলমেরও ডাক পড়েছিল। এদের মধ্য থেকেই যে কোনো একজনকে ওই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়Ñ এমনটিই মনে করা হচ্ছে। ওই আসনে বিএনপি প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী থাকছেন ডা. এ কে এম ফজলুল হক।

চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরুর নাম আসছে বিভিন্ন আলোচনায়। কেউ কেউ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমানের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রাখছেন। ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলম। সাবেক এমপি এম এ লতিফের পুত্র চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ওমর হাজ্জাজও আসনটি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

নগরীর বাইরে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) ও চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয়নি বিএনপি। আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের মনোনয়ন। আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের দুই হেভিওয়েট নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খন্দকার। দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে এই দুই নেতার অনুসারীরা। যে কারণে মারামারি আর খুনাখুনির জনপদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এলাকাটি। উত্তর জেলা ভেঙে দেওয়া, পদ স্থগিত করাসহ বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও সেখানে থামছে না দুই গ্রুপের সংঘাত। এদের যে কোনো একজনকে মনোনয়ন দিলে দলীয় গ্রুপিংয়ের জেরে এলাকার অবস্থা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার এদের বাইরে অন্য কাউকে প্রার্থী করলে তিনি পরিস্থিতি কতটা সামাল দিতে  পারবেন তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত সেখানে কার হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেওয়া হয় সেটা এখন দেখার বিষয়।

চট্টগ্রাম-১৪ আসন জোটের নির্বাচনী সমঝোতায় কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি চট্টগ্রাম-৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনটিতেও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন বিএনপির। এদের মধ্যে আছেনÑ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল মোস্তফা আমিন ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের নাম রয়েছে আলোচনায়।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেসব আসনে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু আসন নির্বাচনী জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এর বাইরে যে আসনগুলো থাকবে সেগুলোতে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে।