ফুটবল বিশ্বের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বলেছেন, তাঁর ক্রীড়াজীবনের সাফল্য কেবল ফিফা বিশ্বকাপ জেতার ওপর নির্ভর করবে না। বৃটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগ্যানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ৪০ বছর বয়সী রোনালদো বলেছেন, “আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ক্রিশ্চিয়ানো, বিশ্বকাপ জেতা কি কোনো স্বপ্ন? আমি বলবো- না, এটি কোনো স্বপ্ন নয়।” রোনালদো বলেন, শুধু একটি টুর্নামেন্টের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে একজন খেলোয়াড়ের কীর্তিকে মূল্যায়ন করা অন্যায় হবে, 'কী নির্ধারণ করবে? ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় কিনা তা ঠিক করার জন্য একটিমাত্র প্রতিযোগিতা—ছয় বা সাত ম্যাচ জয়—এটা কি যথার্থ হবে!'
রোনালদো সরাসরি জানিয়েছেন— তাঁর ফুটবল জীবনের শেষটা আর বেশি দূরে নয়। পিয়ার্স মর্গানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ৪০ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড বললেন, “অবসরটা শিগগিরই আসছে। কঠিন হবে, হ্যাঁ, আমি হয়তো কাঁদবও।”
রোনালদোর ভাষায়, “আমি খোলামেলা মানুষ। আমার অনুভূতি লুকোতে পারি না। তবে আমি মানসিকভাবে তৈরি—২৫, ২৬, ২৭ বছর বয়স থেকেই ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছি। তাই এই চাপটা সামলাতে পারব বলে বিশ্বাস করি।”
আল নাসরের সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আর্থিক চুক্তিতে খেলছেন রোনালদো—প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার পাউন্ড আয় করেন তিনি। এই চুক্তি চলবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ রোনালদো তখন ৪২ বছরে পা দেবেন।
তবু নিজের পরবর্তী জীবনের পরিকল্পনা অনেক আগেই সাজিয়ে ফেলেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা, “আমার মনে হয় কিছুই না। কোনো কিছুই তুলনীয় নয়। ফুটবলে গোল করার সময় যে রোমাঞ্চ বা উত্তেজনা অনুভব করি, তার সঙ্গে কোনো কিছুই তুলনীয় নয়', বললেও রোনালদো যোগ করেন, 'সবকিছুর শুরু আছে, শেষও আছে। এখন আমি নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সন্তানদের লালনপালনের জন্য সময় দিতে চাই।'
রোনালদো বলেন, 'আমার ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র এখন এমন বয়সে আছে, যখন ছেলেরা ভুল করে। আমি নিজেও করেছি। ওকেও আমি পথ দেখাতে চাই। মাতোও ফুটবল ভালোবাসে, ওর সঙ্গেও সময় কাটাতে চাই।'
গত মাসে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে প্রথম গোল করেছেন, যা নিয়ে গর্বিত এই কিংবদন্তি। পরিবারকে ঘিরেই এখন রোনালদোর নতুন প্রেরণা। তিনি সম্প্রতি দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, “এখনো না, আমরা ভেবেছিলাম বিশ্বকাপের পর, ট্রফি জিতে উদ্যাপন করব, কিন্তু...।' কোথায় বিয়ে করতে চান- প্রশ্নে তিনি বলেন, '“আমরা এখনো পরিকল্পনা করিনি, কারণ ও বড় কোনো আয়োজন পছন্দ করে না। ও ঘনিষ্ঠ, ছোট পরিসরের অনুষ্ঠানই পছন্দ করে। আমি তার সিদ্ধান্তকেই সম্মান করব।”
অবসরের পর জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়েও উচ্ছ্বসিত রোনালদো। ব্যবসা শেখার ইচ্ছা আছে তাঁর, তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন—পূর্ণকালীন ইউটিউবার হওয়ার ইচ্ছে নেই। যদিও তাঁর ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ৭ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি। হাসিমুখে বললেন, “আমি আরও মজার কিছু করতে চাই।”
ফাঁকে সময় পেলেই রোনালদো মেতে ওঠেন প্যাডেল খেলায়, যা যুক্তরাজ্যে মধ্যবয়সী পুরুষদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। “আমি বন্ধুদের সঙ্গে প্যাডেল খেলতে ভালোবাসি। এখন আমরা বেশ ভালোই খেলছি,” বলেন রোনালদো।
গত বছর এক পডকাস্টে রোনালদো বলেছিলেন, তিনি অন্তত ১,০০০ গোল না করা পর্যন্ত ফুটবল ছাড়তে চান না। এখন তাঁর দরকার আরও ৫০ গোল। সামনে তাঁর লক্ষ্য—পরের গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে “শেষ নাচ”, শেষ সুযোগ নিজের ও দেশের জন্য আরেকটি গৌরবের অধ্যায় রচনা করা।
'ফুটবলের প্রতি আমার ভালোবাসা চিরন্তন। কিন্তু জীবনের প্রতিটি অধ্যায়কে মর্যাদা দিতে হয়,' বলেছেন রোনালদো।
নিজের পছন্দের ফুটবলার প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, 'না, বিশেষ কোনো খেলোয়াড়কে আমার পছন্দ নয়। উদাহরণ দিয়ে বলি, আমি ব্রাজিলের খেলা দেখি। কারণ, তাদের অনেক বড় খেলোয়াড় আছে—রোনালদো, রোনালদিনিও, কাকা। হ্যাঁ, আমি আর্জেন্টিনার খেলাও দেখি তাদের খেলোয়াড়দের কারণে। আমি একজন খেলোয়াড়ের জন্য খেলা দেখি না।'