চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর ঢালায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা ৯ জন মাইক্রোবাসে কুমিল্লা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা এলাকার এনামুল হকের স্ত্রী রুমানা আক্তার (৬০), তাদের মেয়ে ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী সাদিয়া হক (২৪), এনামুল হকের ভাই আমিনুল হকের স্ত্রী লিজা মজুমদার (২৫), তার মা রাশেদা শিল্পী (৫০) এবং বোন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী ফারজানা মজুমদার (২৪)।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন এনামুল হক, তার ছেলে ও মাইক্রোবাসের চালক আমিনুল হক এবং আমিনুলের ছয় বছরের শিশু সন্তান সাদমান।
একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ও চান্দিশকরা গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসীর চোখে এখন শুধু কান্না ও শোক।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরায় বসবাস করতেন এনামুল হকের ছেলে উদয় পাটোয়ারী। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কিছুদিনের জন্য ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন উদয়।
উত্তরা থেকে রওনা হওয়ার সময় সঙ্গে ছিলেন তার মা রুমি বেগম ও বোন সাদিয়া আক্তার পাটোয়ারী। ভোরে চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার ফাল্গুনকরায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ওঠেন উদয়ের স্ত্রী ফারজানা মজুমদার লিজা, তাদের চার বছরের ছেলে সামাদ পাটোয়ারী, শাশুড়ি রিজওয়ানা মজুমদার, শ্যালিকা ফারহানা মজুমদার ও শ্যালক শাহেদ মজুমদার।
তবে কক্সবাজার পৌঁছানোর আগেই ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীর ঢালা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে উদয়ের শ্বশুর আবদুল মান্নান মজুমদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে লিজা কয়েক দিন আগে বেড়াতে এসেছিল। উদয় বলেছিল, সবাই মিলে কক্সবাজারে ঘুরে আসবে। কে জানত, এই ভ্রমণই হবে শেষ দেখা! আমার নাতিটাও এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এতগুলো লাশ কীভাবে নিয়ে যাব, বুঝতে পারছি না।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢালু সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ও ফাল্গুনকরায় এখন শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এক নিমিষে এমন হাসিখুশি দুই পরিবার নিভে গেল কেন? পুরো উপজলো জুড়ে বইছে শোকের ছায়া।