৪ লাখ নাগরিককে সামরিক প্রশিক্ষণ দেবে পোল্যান্ড

পোল্যান্ড চলতি মাসে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।  ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় চার লাখ নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য দেয়।

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে পোল্যান্ড প্রতিরক্ষা ব্যয়ে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ১৬ হাজার, এবং আগামী এক দশকে তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ভ্লাদিস্লা কসিনিয়াক-কামিশ এই উদ্যোগকে পোল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বলে বর্ণনা করেছেন। ‘অ্যাট রেডিনেস’নামের এই কর্মসূচি স্বেচ্ছাসেবামূলক হবে এবং স্কুলশিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও প্রবীণ নাগরিক—সবাই এতে অংশ নিতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মৌলিক নিরাপত্তা শিক্ষা, বেঁচে থাকার কৌশল, প্রাথমিক চিকিৎসা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে। উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেজারি টমচিক জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, আর সব মিলিয়ে এ দুই মাসে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা এক লাখ ছাড়াবে।

তিনি আরও জানান, আগামী বছর ‘এডুকেশন উইথ দ্য আর্মি’,রিজার্ভ প্রশিক্ষণ এবং স্বেচ্ছাসেবী বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার আওতায় মোট প্রায় চার লাখ নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পোল্যান্ডের জেনারেল স্টাফ প্রধান ভিয়েসলাভ কুকুলা বলেন, এই কর্মসূচির দুটি প্রধান লক্ষ্য—নাগরিক ও সম্প্রদায়ের প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রিজার্ভ বাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক গত মার্চে রাশিয়ার আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ায় রিজার্ভ সেনা বাহিনী গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।