যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) তিন মাসের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, এল ফাশের শহরে গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্ষোভের মধ্যেই এ ঘোষণা এসেছে।
জাতিগতভাবে প্রভাবিত সাম্প্রতিক হত্যাযজ্ঞে হাজারো বেসামরিক নাগরিককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে আরএসএফ এর বিরুদ্ধে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের প্রস্তাবিত মানবিক যুদ্ধবিরতি তারা মেনে নিয়েছে।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাবের স্যাটেলাইট চিত্র ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আরএসএফ সদস্যরা দারফুরজুড়ে গণকবর খুঁড়ে লাশ লুকিয়ে রাখছে। এ ঘটনায় আরএসএফের প্রধান সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ অস্বীকার করেছে, যদিও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে এর প্রমাণ উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এল ফাশের এলাকায় হত্যাযজ্ঞ, যৌন সহিংসতা ও হাসপাতালগুলোতে হামলার ঘটনার প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এক হাসপাতালেই অন্তত ৪৬০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও নার্সদের অপহরণ করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে রূপ দিতে সৌদি আরবে নতুন আলোচনার আশা করছে মধ্যস্থতাকারীরা। তবে সুদানি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লড়াই চালিয়ে যাবে—ফলে এই যুদ্ধবিরতি টিকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে।