লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. দিদারুল ইসলাম সুমন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় জুলাই আন্দোলনে পুলিশে গুলিতে আহত হয়। দীর্ঘ দশ মাস স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে তার কোনও খোঁজ বা চিকিৎসায় সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দিদারুল ইসলাম সুমন বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে জীবন বাজী রেখেছি। অসংখ্য বার মার খেয়েছি। জেল খেটেছি। ঠিকমত বাসা বাড়িতে থাকতে পারিনি। রাস্তায় রাস্তায় দিন-রাত কাটিয়েছি। জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলি ও লাঠি চার্জের শিকার হয়েছি। সর্বশেষ গত ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আনন্দ মিছিলে অংশ নেয়। হঠাৎ পিছন থেকে গুলি এসে মাথায় গেঁথে অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। এ সময় মিছিলে থাকা আন্দোলনকারীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করান। দীর্ঘদিন চিকিৎসায় ছিলাম। গত কয়েক মাস অসহ্য যন্ত্রণা ও মাথা ব্যথা নিয়ে হাসপাতাল আর বাসায় দৌড়চ্ছি। যতটুকু টাকা ছিল চিকিৎসায় ব্যয় করেছি। এখন আর পারছিনা। গত কয়েক মাসে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসায় প্রায় ১৫-১৬ লাখ টাকা খরচ করেছি। পরিবারের পক্ষে এত ব্যয়বহুল চিকিৎসা কিভাবে করাবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার উন্নত চিকিৎসা করাতে বাহিরে যেতে বলেছে। আমার এবং পরিবারে পক্ষে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করার মতে কোনও সামর্থ্য নাই।
তিনি আরও বলেন, খুবই কষ্ট পাচ্ছি যেই দলের জন্য সারাজীবন ব্যয় করলাম। রাজপথে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করলাম। সর্বশেষ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিজেই আহত হলাম। গুলি খেলাম। অথচ দলের কোন মূল্যায়ন পেলাম না। দলের কোন নেতা খোঁজ-খবর নিলো না। এতে খুবই আপসোস এবং কষ্ট লাগছে।
তার পরিবারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে এবং স্ত্রীর আছে। তার বাড়ী উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে সফি উল্লাহ বাড়ী। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুব দলের সদস্যের দায়িত্বে রয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন মানিক বলেন, দিদারুল ইসলাম সুমন দলের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতা। রাজপথে আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। সে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় পর যাত্রাবাড়ী থানায় পুলিশের গুলিতে আহত হয়। তার চিকিৎসায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। তার ব্রেনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিএনপি তার খোঁজ খবর নেয়নি। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার।
কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, দিদারুল ইসলাম সুমন বিএনপির নিবেদিত কর্মী ও নেতা। জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানায় পুলিশে গুলিতে সে আহত হয়। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।