শাহদীন মালিক

যেটা ৮ মাসে হয়নি, সেটা ৮ দিনের কম সময়ে কীভাবে সম্ভব

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চালিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে সরকার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক এই সিদ্ধান্তকে সুবিবেচনাপূর্ণ বলে মনে করছেন না।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় আট মাস ধরে দলগুলোর মধ্যে বহুবার আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো ঐকমত্য হয়নি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মতো একটি মধ্যস্থতাকারী সংস্থার উপস্থিতিতেও তারা একমত হতে পারেনি। তাই মাত্র আট দিনের মধ্যে দলগুলো নিজেরাই যে সমাধান খুঁজে পাবে, সেটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

একই সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের গণভোট ও সাংবিধানিক আদেশ জারির সুপারিশও বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গণভোটের জন্য প্রস্তাবিত ৪৮টি বিষয় রয়েছে। এতগুলো জটিল প্রস্তাব পড়ে বোঝা এবং সেগুলোর ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলাটা সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। বেশিরভাগ মানুষ হয়তো কিছু প্রস্তাবের সাথে একমত হবেন, আবার কিছু প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংসদের সিদ্ধান্ত আগে থেকে বেঁধে দেওয়া এবং ২৭০ দিনের মধ্যে পাস না হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত হয়ে যাওয়ার বিধান আইনের মৌলিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। একটি সংসদ কখনই পরবর্তী সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারে না।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিশ্চিত হবে-এই ধারণাটিও পূর্ণাঙ্গ সত্য নয়। সংবিধান ভালো হলেই যে দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তা নয়। যুক্তরাজ্য বা কানাডার মতো দেশগুলোর কোনো লিখিত সংবিধান নেই, কিন্তু সেখানে গণতন্ত্র টিকে আছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সংবিধানে অনেক গণতান্ত্রিক বিধান থাকলেও বাস্তবে সেখানে গণতন্ত্র নেই। তাই সংবিধানের চেয়ে রাজনৈতিক চর্চা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, দেশে যদি ন্যূনতম আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকে, তাহলে গণভোটের পর জারি করা সাংবিধানিক আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। এই জটিলতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করা। কোনো রাজনৈতিক দলই যদি বলে যে তারা ক্ষমতায় গেলে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে, তাহলে সেটি পরবর্তী সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।