পটুয়াখালীর গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবায় বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে দক্ষিণ কপালবেড়া খলিফা বাড়ির সামনের চৌরাস্তায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কমিটি গঠন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কপালবেড়া বাজারে গণ অধিকারের সভা ছিল। সভায় বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে অংশ নেয়। অন্যদিকে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গলাচিপায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের আগমনে রাতে শুভেচ্ছা মিছিল করে চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপি। একদিকে সভা শেষ করে গণ অধিকার নেতাকর্মীরা ফিরছিলেন। অন্যদিকে মিছিল শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরাও বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দক্ষিণ কাপালবেড়া চৌরাস্তা বাজারে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সভায় লোক উপস্থিত হওয়া নিয়ে বাগ্বিত-া হয়। এ সময় বিএনপির নমিনেশন হাসান মামুন পাবেন, না গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর পাবেনÑ এ বিষয় নিয়ে তাদের তর্ক হয়। একপর্যায়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
আহত চরশিবা সাংগঠনিক ইউনিয়নের যুবদলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস রাঢ়ী বলেন, শুক্রবার হাসান মামুন ভাইয়ের প্রোগ্রাম উপলক্ষে রাতে আমরা কপালবেড়া বাজারে শুভেচ্ছা মিছিল করেছি। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার সময় গণ অধিকার পরিষদের কর্মীরা আমাদের লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত আজমীরের মা আমেনা বেগম বলেন, আমার ছেলে মোটরসাইকেলচালক। কিছুদিন আগে বিএনপির সভায় গাড়ি নিয়ে যেতে বলেছিল সে যায়নি। কিন্তু আজ (গতকাল) গণ অধিকার পরিষদের সভায় যায়।
সভা শেষ করে বাসায় ফেরার পথে চৌরাস্তায় বিএনপির লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। আমার বাসার সামনেই ঘটনা ঘটে। আমি ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করে।
জানা গেছে, বিএনপি গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। তবে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রাখে দলটি। এ নিয়ে সাধারণ মানুষ, বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীকে হাসান মামুনের মনোনয়ন চেয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এদিকে ঘটনার পর রাত ১২টার দিকে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন। এ সময় উভয় দলের আহতদের তিনি চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে হাসান মামুন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছি, তবে এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এখানে রয়েছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।