জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে ভিজিডি যা বর্তমানে ভিডব্লিউবির কার্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই কার্ডে স্বামীর নাম গোপন করে বাবার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের নীতিমালা, অতিদরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের নারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এর মধ্যে ভূমিহীন বা যাদের মোট জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ১৫ একর বা কম এবং যাদের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই, তারাই যোগ্য বিবেচিত হবেন। অথচ ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের সচ্ছল পরিবারের সদস্যরাও এ তালিকায় রয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
ওই প্যানেল চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নাম মোছা. স্বপ্না খাতুন ভিডব্লিউবির কার্ডের তালিকায় ২৭০ নম্বরে রয়েছেন। এখানে তার বয়স ২৪ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। অভিভাবকের নামের জায়গায় স্বামীর নাম গোপন রেখে চেয়ারম্যানের শ্বশুর আব্দুল হামিদের নাম দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত দুস্থ নারীরা বঞ্চিত হলেও জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজন ও সচ্ছল পরিবারের লোকজনই অধিকাংশ ভিজিডি কার্ড পেয়েছেন। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা হলেও জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজেদের আত্মীয়স্বজনকে কার্ড দিয়েছেন। লটারির নামে শুধু নাটক করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান টেক্স আদায়সহ অনেক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। ইউপি সদস্যদের কাউকেই পরিষদে ঢুকতে দিচ্ছেন না।’
ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন লেবু বলেন, ‘প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম নিজের ইচ্ছামতো পরিষদ পরিচালনা করছেন। তিনি অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমেই পরিষদ পরিচালনা করছেন। এমনকি নিজের স্ত্রীর নামেও ভিজিডি কার্ড নিয়েছেন। তার অনিয়ম, দুর্নীতির প্রতিবাদে আমরা ১০ জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভিজিডি কার্ড নেওয়া অনৈতিক। ইউপি সদস্যরা আসছেন না বলেই চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইউপি সদস্যরা নিজেরাই পরিষদে আসেন না। তাদের কেউ বাধা দেননি।’