মোটরসাইকেলে এসে কাকরাইলে অবস্থিত সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল চার্চে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিক্ষেপ করা আরও একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মধ্যরাতের এই ঘটনায় গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা ও দুর্বৃত্তদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম এ বিষয়ে গতকাল বলেন, একটি মোটরসাইকেলে দুজন এসে ককটেল দুটি ছুড়ে মারে। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে এমন দেখা গেছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও চার্চ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে গির্জার ফটকের স্টিলের পাতে ককটেলটি বিস্ফোরিত হয়। গির্জার ভেতর থেকে অবিস্ফোরিত আরেকটি ককটেল পড়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করে। পরে বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল চার্চের ফাদার আলবার্ট রোজারিও গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকালের ঘটনার পর চার্চ ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছেন। আজ (শনিবার) এখানে দেশের বিভিন্ন চার্চ থেকে আসা ফাদারদের নিয়ে একটা পুর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান ছিল, সেটিও ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পারিনি।’
ককটেল নিক্ষেপকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এর আগেও গত ৮ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার তেজগাঁওয়ে হোলি রোজারি চার্চের ফটকে একই কায়দায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। সেদিন রাতে চার্চের প্রধান ফটকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গেটের সামনে অবিস্ফোরিত আরও দুটি ককটেল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেদিনও ককটেল নিক্ষেপকারীরা বাইক নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।