বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, দেশের মালিকানা আজ জনগণের হাতে নেই-অল্প কিছু লোক নিজেদের মালিক মনে করে জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমীর খসরু তার বক্তব্যে তীব্র ভাষায় বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অনির্বাচিত সরকার থাকার কারণে গত ১৪ মাসে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানই সঠিকভাবে কাজ করছে না। যখন একটি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, তখন রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তার স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা হারায়। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ-সবখানেই অদক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট।
বিএনপি নেতা আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত এখন একক গোষ্ঠীর হাতে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে যারা নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। দেশের মালিকানা আজ জনগণের হাতে নেই-অল্প কিছু লোক নিজেদের মালিক মনে করে জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করছে।
তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কাজ জনগণের সেবা করা, তাদের ওপর কর্তৃত্ব করা নয়। রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে হলে নির্বাচিত সরকার গঠন ছাড়া বিকল্প নেই।
আমীর খসরু স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেরও সমালোচনা করেন। তার মতে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করলে সেবা ও জবাবদিহিতা-দুটিই হারিয়ে যাবে।
বিএনপি নেতা সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ এনে বলেন, নির্বাচনি প্রহসনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা শুধু বিরোধী দল নয়, দেশের নাগরিক সমাজকেও দমন করছে। এখন সময় এসেছে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার।
তিনি তার বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথও নির্দেশ করে বলেন, আমরা সংঘর্ষ চাই না, চাই সহনশীল রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে-এটাই আজকের সবচেয়ে বড় সংস্কার।