নূর হোসেন দিবস পালিত

নূর হোসেনের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্র আজও পূর্ণতা পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। তারা বলছেন, দেশে নতুন রূপে কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। জনগণের অধিকার ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। নূর হোসেন, ডা. মিলন, আবু সাঈদসহ শহীদদের আদর্শেই গণতন্ত্র ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই জারি রাখতে হবে। গতকাল সোমবার শহীদ নূর হোসেন দিবসে রাজধানীর গুলিস্তানে নূর হোসেন চত্বরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা  শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন। ১৯৮৭ সালের এই দিনে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা সেøাগান নিয়ে মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন নূর হোসেন। মিছিলটি রাজধানীর জিরো পয়েন্ট (বর্তমান শহীদ নূর হোসেন চত্বর) এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নূর হোসেন শহীদ হন।

শহীদ নূর হোসেন স্মরণে এক আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ১০ নভেম্বর আমার কাছে শোকের দিন নয়। এটা একটা শপথের দিন। সর্বশেষ ২০২৪-এ দেখলেন একেবারে দুই বাহু প্রসারিত করে গুলি আহ্বান করা। চালাও গুলি দেখি কী করতে পারো। এ রকম এত বড় আত্মদান আমাদের প্রত্যেকের চেতনাকে আরও শানিত করে। আমাদের আরও জাগ্রত করে। আন্দোলনের পথে, সংগ্রামের পথে, জীবনদানের পথে, ত্যাগের পথে আমাদের উদ্দীপ্ত করে। এ জন্যই আমি মনে করি এই দিনগুলো আমাদের কাছে এক একটা লাল অক্ষরে লেখার মতো দিন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র মানে এই নয় যে আমরা ভুলের চর্চা করব, মিথ্যার চর্চা করব। মেজরিটি দিয়ে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠা করব। বরঞ্চ আমরা সত্যের জন্য লড়াই করছি সত্যকেই আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছি। এই সরকার এই পথ বাদ দিয়ে যদি অন্য পথে যাওয়ার চেষ্টা করে তাতে লাভ হবে না।