রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের মানবতাবিরোধী মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ১১তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন।
আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেল—চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর—সাক্ষ্যগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত আজকের দিনেও কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এর আগে, সোমবার (১০ নভেম্বর) রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব রেজা খান সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সাক্ষী উল্লেখ করেছেন যে, গুলিবিদ্ধ আবু সাঈদকে সহপাঠী ও কয়েকজন অন্য শিক্ষার্থী মিলে রিকশায় করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের—এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়সহ কিছু শিক্ষক-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করেছেন।
মামলার আগের সাক্ষ্যগ্রহণে পুলিশের দুই উপপরিদর্শক—এসআই রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল—জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। ২৯ সেপ্টেম্বর, ২২ সেপ্টেম্বর ও ২১ সেপ্টেম্বর আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এছাড়া, ৯ ও ৭ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলাম এবং রংপুরে কর্মরত এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট একেএম মঈনুল হককেও জেরা করা হয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আপাতত স্থির রয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন মিজানুল ইসলাম, আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিম ও সুলতান মাহমুদ। আগামীতে সাক্ষী উপস্থিত হলে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হবে।