ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বাংলাদেশে ‘দেশপ্রেমিক’ ও ‘ক্ষমতাপ্রেমী’-এই দুই শ্রেণির মানুষের বিভাজনের কথা তুলে ধরে সতর্ক করেছেন যে গণভোট নিয়ে ‘টালবাহানা’ চললে সরকারকে কঠোর কর্মসূচির মুখোমুখি হতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পুরানা পল্টনে আট দলের সমাবেশে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
মুফতি রেজাউল করীম তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে দুই শ্রেণির মানুষ এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এক শ্রেণির আমরা যারা দেশপ্রেমিক, আরেক শ্রেণি হলো ক্ষমতাপ্রেমী। আওয়ামী লীগ সরকার দেশপ্রেমিক ছিল না, তারা ছিল ক্ষমতাপ্রেমী।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা ফ্যাসিস্ট হওয়ার চিন্তা করছেন, যারা গণভোট নিয়ে টালবাহানা করছেন-আপনারা পালাবেন কোথায়? আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে সেই দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এছাড়া কিন্তু আপনাদের পালানোর কোনো জায়গা নেই।
ইসলামী আন্দোলনের আমির জোর দিয়ে বলেন, যদি আপনাদের উদ্দেশ্য ভালোই হয়ে থাকে, যেখানে আইনি ভিত্তির ব্যাপারে আপনারা একমত পোষণ করেছেন। সেখানে গণভোটে এত গড়িমসি কেন? তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা শান্তিপ্রিয়, বারবার রাস্তায় রোদে আমাদের পোড়াচ্ছেন-আর কত রাস্তায় নামতে হবে?
মুফতি রেজাউল করীম ভবিষ্যতের কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এরপর আমরা বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করবো, আপনি গণভোট নির্বাচনের আগে দিতে বাধ্য হবেন। আমাদের ওই পথে আপনারা হাঁটাবেন না। আমরাও ওই পথে হাঁটতে চাই না।
তিনি সরকারের প্রতি শেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজকের জাতীয় সমাবেশের মাধ্যমে আপনাদের আমরা বারবার অনুরোধ করছি। এরপরও যদি আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় না হয় তাহলে কিন্তু পরে আমরা কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
পুরানা পল্টনের এই সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজনের দাবিতে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।