রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খাওয়ার ফুটেজ ধরে খুনিদের শনাক্ত করল ডিবি

চট্টগ্রাম নগরে হাসান তারেক নামে এক যুবককে খুনের পর খুনিরা সবাই মিলে রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খেয়েছিলেন। ওই রেস্টুরেন্টের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সুত্র ধরে খুনিদের শনাক্ত করেছে মহানগর ডিবি পুলিশ।

সোমবার রাতে নগরের চকবাজার এলাকা থেকে ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ আলাউদ্দিন নামে এক মাদক কারবারি ডিবির হাতে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে হাসান তারেক খুনের রহস্য। ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি আলাউদ্দিন আরও দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জব্দ মাদকের মালিক ছিলেন শওকত নামে আরও এক মাদক কারবারি৷ আলাউদ্দিনসহ দুই মাদক কারবারিকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে এমন সন্দেহ থেকে খুন করা হয় হাসান তারেককে। তারেক খুনের মূল পরিকল্পনাকারী শওকত বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর ডিবি পুলিশ।

গত বছরের ১১ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম নগরের খেজুরতলা লিংক রোডের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় হাসান তারেকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয় পাহাড়তলী থানায়। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান জানান, খুনের শিকার হাসান তারেক নিজেও ছিলেন মাদক মামলার আসামি। ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি ফেনসিডিলসহ আলাউদ্দিন ও মোরশেদ আলম গ্রেপ্তার হন। তাদের সন্দেহ, হাসানই তাদের মাদকসহ পুলিশকে ধরিয়ে দেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে হাসানকে খুনের পরিকল্পনা করেন তারা।

২০ হাজার টাকায় ভাড়া করা হয় খুনি। পরিকল্পনা মাফিক গত বছরের ১১ অক্টোবর হাসানকে খুন করে হাত-পা বেঁধে নির্জন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। শুরুতে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে তার বোনকে পাওয়া যায়। সেখান থেকে তথ্য পাওয়ার পর নিহত হাসানের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া শুরু করে পুলিশ।

আলাউদ্দিন ও মোরশেদ গ্রেপ্তারের পর ৯ মাস কারাভোগের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে তারা জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর নগরের জামাল খান এলাকার একটি গলিতে বসে হাসানকে খুনের পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনামতো গত বছরের ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরের কাজীর দেউড়ির এলাকায় আসেন ভাড়াটে খুনি মো. সাকিব ও ইকবাল হোসেন। ইকবাল হাটহাজারী থেকে একটি অটোরিকশা নিয়ে আসেন। শওকত এসে সেখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকাও দেন আলাউদ্দিনকে।

এরপর খুনিরা নগরের গরীব উল্লাহ শাহ মাজার এলাকা থেকে হাসানকে অটোরিকশায় তুলে বায়েজিদ বোস্তামী-সীতাকুণ্ড লিংক রোডের জঙ্গল সলিমপুরের নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে সাকিব ও মোরশেদ প্রথমে নাইলনের রশি দিয়ে হাসানের হাত বেঁধে ফেলেন।

পরে নাইলের রশি হাসানের গলায় পেঁচিয়ে দুই পাশ থেকে দুজন টান দিলে ২০ মিনিটের মধ্যে হাসান মারা যান। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি নিয়ে আবার সিটি গেট থেকে ঘুরে পাহাড়তলী রাসমণি ঘাটসংলগ্ন লিংক রোডে ফেলে দেয়।

খুন করার পরে হাসান তারেকের লাশ ফেলে দিয়ে আসার পর আসামিরা ওয়াসা মোড়ে এসে একটি রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি খান। এরপর মাদক কারবারি শওকতের কাছ থেকে নেওয়া ২০ হাজার টাকার মধ্যে ৫ হাজার টাকা মোরশেদকে, সাকিবকে ২ হাজার টাকা, ইকবালকে ২ হাজার এবং সিএনজিচালককে ২ হাজার টাকা দেন আলাউদ্দিন।