মুবিন আহমেদ দিশান পাচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন আগের বছর। ৯ ইনিংসে রান ছিল সাকুলে ১৩৫। তবে আজ এক ইনিংসেই তা ছাড়িয়ে গেলেন ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯শে পা দেয়া সিলেটের এই ব্যাটার। ৪৫৫ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে উপহার দিয়েছেন ১৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।
ম্যাচটি অবশ্য ড্র হয়েছে। ড্র হয়েছে এই রাউন্ডের আরও একটি ম্যাচ। তবে শেষ দিনে দারুণ জয় পেয়ে খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ। খুলনার জয়ে ম্যাচের সেরা সৌম্য সরকার, বরিশালের জয়ে নায়ক তানভির ইসলাম।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে দিনটি শুরু করেছিল সিলেট বিভাগ। তৃতীয় দিন শেষে ১২৭ রানে এগিয়ে থাকলেও উইকেট ছিল কেবল ৫টি। শেষ দিনে মুবিন আহমেদ দিশাদের শতরান নিরাপদ পথ দেখায় দলকে। শাহানুর রহমানের সঙ্গে ষষ্ঠ জুটিতে ৯৫ রান যোগ করেন তিনি। ৩৯ রান করে শাহানুর আউট হয়ে গেলেও লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান দিশান। সেঞ্চুরি করেই না থেমে এগিয়ে যান আরও কিছুটা পথ। শেষ পর্যন্ত ১০ চার ও ১ ছক্কায় ২৬২ বলে ১৪১ রান করে যখন তিনি আউট হন রবিউল হকের বলে, সিলেট তখন বিপদমুক্ত।
রংপুর দ্বিতীয় ইনিংসে যখন ব্যাটিংয়ে নামে, ম্যাচ তখন ড্রয়ের পথে। অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম ১৩৩ বল খেলে স্রেফ একটি বাউন্ডারি মেরে অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট বিভাগ ১৯৯ ও ৯৬ ওভারে ২৯৪/৯ (ডি.) (মুবিন ১৪১, শাহানুর ৩৯)। রংপুর বিভাগ ২৪৫ ও (লক্ষ্য ২৪৯) ৪১ ওভারে ১১২/৪ (আল মামুন ৪৩, নাঈম ৩৪)।
শুরুতে সৌম্য, শেষে মেহেদি
জয়ের জন্য শেষ দিনে খুলনার প্রয়োজন ছিল কেবল ১৮৫ রান, উইকেট ছিল সবকটি। কিন্তু দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলে চট্টগ্রাম বিভাগ। ৫ উইকেট নেন বাংলাদেশ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া নাঈম হাসান। তবে ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকার ও আটে নামা শেখ মেহেদি হাসানের ব্যাটে জিতে যায় খুলনা।
প্রথম রাউন্ডে বরিশালকে হারালেও দ্বিতীয় রাউন্ডে রাজশাহীর কাছে হেরে গিয়েছিল খুলনা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম বিভাগ ৩৫১ ও ১৬৬
খুলনা বিভাগ ২৮২ ও ২য় ইনিংস (লক্ষ্য ২৩৭) ২৩৭/৮ (সৌম্য ৭১, শেখ মেহেদি ৫০*, শাহরিয়ার ৩৩, নাঈম ৩২-২-১০৫-৫)।
তানভিরের ৯ উইকেটে বরিশালের প্রথম জয়
খুলনায় প্রায় সমান সম্ভাবনা নিয়েই শেষ দিনটি শুরু করে বরিশাল বিভাগ ও রাজশাহী বিভাগ। দারুণ বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ে দেন বরিশালের পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশু ও বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম।
শেষ দিন জয়ের জন্য রাজশাহীর দরকার ছিল ২৪১ রান, উইকেট ছিল ১০টিই। মিজানুর রহমান ও সাব্বির হোসেন দলকে এনে দেন ভালো শুরু। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রান তোলেন দুজন। কিন্তু তানভিরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে রাজশাহীর মিডল অর্ডার। ২৮ রানের মধ্যে হারিয়ে বসে তারা ৬ উইকেট। সাব্বির রহমান একটা প্রান্ত আগলে রাখেন দেড় ঘণ্টা। তাকেও (১৮) ফিরিয়ে দেন তানভির। রাজশাহীর রান তখন ৭ উইকেটে ১১৩। রাহিম আহমেদ ও নিহাদউজ্জামান অষ্টম উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। তবে ৩৩ রানে রাহিম ও ২৯ রানে নিহাদকে ফিরিয়ে বরিশালের জয় নিশ্চিত করেন ইয়াসিন।
চারটি করে উইকেট নেন ইয়াসিন ও তানভির। প্রথম ইনিংসে তানভির নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচের সেরা বরিশাল অধিনায়কই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ ২১২ ও ২৬৮
রাজশাহী বিভাগ ২৩৫ ও (লক্ষ্য ২৪৬) ৭৪.৫ ওভারে ১৯১ (তানভির ৩২.৫-৯-৫২-৪, ইয়াসিন ১৭-৫-৪১-৪, রুয়েল ১৪-২-৩৬-২)।
নিষ্প্রাণ ড্র
প্রথম তিন দিনে দুই দলের প্রথম ইনিংসও শেষনি। ম্যাচ তাই নিশ্চিত ড্রয়ের পথেই ছিল। শেষ দিনে উত্তেজনাময় কিছু হয়নি। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে প্রাণহীন ড্র হয় ময়মনসিংহ বিভাগ ও ঢাকা বিভাগের লড়াই।
ময়মনসিংহ ৩৩৬ ও ৯৭/০। ঢাকা ৩২৩ ও ৩৮৮।