দেখামাত্র সন্ত্রাসীদের গুলির নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

চট্টগ্রামে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র  ব্রাশফায়ার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন নগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কয়েক দফায় ওয়ারল্যাস সেটে টহল ও থানা পুলিশকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সুত্রগুলো জানাচ্ছে, নগরে গত কয়েকমাস ধরে আন্ডারওয়াল্ডে অস্থিরতা চলছে। একের পর এক খুন খারাবি হচ্ছে। নগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। সবশেষ গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের চালিতাতলীর খন্দকারপাড়ায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। গুলিতে আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ আরও দুজন। 

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর রাতে বাকলিয়া বগার বিল এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ। আহত হয় ১৫জন। এর আগে গত ২৫ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শীর্ষ আরেক সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। 

এসব খুনের ঘটনায় হাতেগোনা কয়েকজন সন্ত্রাসী পুলিশের জালে আসলেও ধরা পড়েনি মূল অস্ত্রবাজরা। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও পুলিশ সন্ত্রাসীদের পায়ে বেড়ি লাগাতে পারছে না। ব্যর্থ হচ্ছগোয়েন্দা নজরদারিও। সিএমপির উচ্চ পদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা 'ব্রাশফায়ারে' সন্ত্রাসীদের হত্যার আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমেকে নিশ্চিত করেছেন। ওয়্যারলেস বার্তায় পুলিশ কমিশনার বলেন, 'শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।'

বিষয়টি স্বীকার করে সিএমপি কমিশনার গণমাধ্যমকে বলেন, 'দেখামাত্র ব্রাশফায়ার নিরস্ত্র জনসাধারণের জন্য নয়। যার হাতে অস্ত্র নেই, তার ওপর তো আর এসএমজি ইউজ করব না। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী যারা তাদের জন্য এই নির্দেশনা। আমার এলাকায় ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটা খুন করে গেল (বায়েজিদের চালিতাতলী)। এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে তারা যেন আর সাহস না পায়। এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে চট্টগ্রাম নগরে ঢোকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তারা যেন স্বপ্নেও এটি কল্পনা করতে না পারে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা'। 

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, 'আমরা করছি চালিতাতলী বায়েজিদে কুখ্যাত সন্ত্রাসী যারা লোক মারল, তাদের ঠেকানোর জন্য। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি করে মেরা ফেলা হবে। সাজ্জাদ বাহিনী, ইয়াসিন বাহিনী, বার্মা সাইফুল ইত্যাদি যারা আছে, যারা কথায় কথায় মানুষ মারে তাদের জন্য এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।'

বেতারবার্তায় যেকোনো পরিস্থিতি এবং নাশকতা এড়াতে টহল টিমগুলোকে এসএমজি ছাড়াও, শিশা শটগান, দুইটি গ্যাস গান এবং টিম ইনচার্জকে নাইন এমএম পিস্তল বহন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী চেকপোস্ট সাতটি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করতে আদেশ দিয়েছেন কমিশনার। গত ১৩ আগস্ট আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে অভিযানে গিয়ে বন্দর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় পুলিশের কোনো টহল দল কিংবা পুলিশি অভিযানের সময় কেউ অস্ত্র বের করলে আত্মরক্ষায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন সিএমপি কমিশনার।