আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর)। এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি মামলায় রাজসাক্ষী বা অ্যাপ্রুভার হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রায়ের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আজ অনলাইনে ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। গত তিন দিনে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে নাশকতার আশঙ্কায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ সময় অন্তত ১৭টি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, এর মধ্যে ১৬টি ঢাকাসহ আশপাশের সাভার ও গাজীপুর এলাকায়। এছাড়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর ঘটনাও ঘটেছে। গত তিন দিনে ঢাকায় অন্তত ২২টি স্থানে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আজ রায়ের তারিখ ঘোষণার দিন সকাল থেকেই ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার প্রবেশমুখ, আদালত এলাকা ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি মাঠে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাবের সদস্যরা।
আজ সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে কঠোর নিরাপত্তা তৎপরতা। সকাল ৬টার পর গাবতলীতে ঢাকার প্রবেশমুখে পুলিশ ও বিজিবির কড়া নজরদারি ছিল। সকাল ৭টার দিকে শ্যামলীতে লাঠি হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিল বের হয়। একই সময়ে কল্যাণপুরে পুলিশের টহল ও তল্লাশি চলতে দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা।
সকাল ৮টার আগে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়। একই সময়ে মাজার রোড ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। সকাল ৮টার পর শাহবাগে পুলিশ তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করে।
রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট স্থাপন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে সবার দৃষ্টি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দিকে, যেখানে আজ ঘোষণা হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলার রায়ের তারিখ।