দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়ল উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনকে উসকানি দিতে গোপনে ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। সিউলের প্রসিকিউটররা এমন অভিযোগের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তদন্তকারীদের দাবি, সম্ভাব্য উত্তেজনা বাড়িয়ে মার্শাল ল জারি করার রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ ছিল এই উদ্যোগ।
সিএনএন এর একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করে যে, সেনাবাহিনীর একজন বর্ষীয়ান কর্মকর্তার ফোন থেকে পাওয়া নোটে উল্লেখ রয়েছে। ইউন ও দুই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা পিয়ংইয়ং, সামজিয়ন, ওয়ানসানসহ কিছু সংবেদনশীল স্থানে ড্রোন পাঠাতে চেয়েছিলেন। যাতে উত্তর কোরিয়া প্রতিক্রিয়া দেখায়। উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে ইউন জরুরি সামরিক শাসন ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন তাদের ভূখণ্ডে প্রচারপত্র ফেলেছে। তখন অভিযোগটি অস্বীকার করা হলেও নতুন প্রমাণে বিষয়টি সত্য হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ওই ঘটনার পর পিয়ংইয়ং সড়ক–রেল যোগাযোগ ছিন্ন করার হুমকি দেয় এবং দুটি রাস্তা ধ্বংসও করে। যদিও সামরিক হামলা চালানো হয়নি।
এর কয়েক সপ্তাহ পর ইউন ‘উত্তর কোরিয়ার হুমকি’ দেখিয়ে টেলিভিশনে এসে মার্শাল ল ঘোষণা করেন। সেনারা হেলিকপ্টারে করে পার্লামেন্টে ঢোকার চেষ্টা করলে সংসদ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং দ্রুত ভোটাভুটির মাধ্যমে আদেশটি বাতিল করেন। ঘটনাটি দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ইউনকে অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হয়।
ইউন সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন। তবে তদন্তকারীদের মতে, রাজনৈতিক স্বার্থে এমন উসকানি তৈরি করা কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাটি এখনও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতিতে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।