হ্যাঁ না ভোট

মানুষ কি বুঝে ভোট দেবে, নাকি না বুঝে!

বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। তবে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিরক্ষর ভোটার এই গণভোটের চারটি জটিল বিষয় বুঝে ভোট দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিক্সের (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৫ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের সাক্ষরতার হার ৬০.৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৩৯.২৩ শতাংশ মানুষ সাক্ষর নন। ১২ কোটিরও বেশি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে তাই নিরক্ষর ভোটারের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গণভোটের ঘোষণার পর থেকে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চারটি বিষয়ে একটি হ্যাঁ বা না ভোট দিতে হবে ভোটারদের। কিন্তু এই বিষয়গুলো সাধারণ ভোটারের বোঝার ক্ষমতার মধ্যে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই।

তবে এই বুঝতে পারা না পারার বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ বলছেন, যে দেশের মানুষ ৬৯ সালে ১১ দফা বুঝতে পেরেছে, জিয়াউর রহমানের ১৯ দফার ওপরে গণভোটে অংশ নিয়েছে, সে দেশে চারটি বিষয় বুঝে নিতে পারবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক বলেন, অত্যন্ত চৌকস কারোর পক্ষেও এটা পড়ে বুঝে ভোট দেওয়া সহজ হবে না।

মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিনের মতে, গণভোটের জন্য বাংলাদেশের মানুষ কতটা প্রস্তুত, সেটা বড় প্রশ্ন। বিশাল অংশের মানুষ হ্যাঁ আর না-এর বাইরের আলাপগুলো বুঝতে পারবে না।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম মনে করেন, দেড় বছর ধরে মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নিয়ে প্রচার-প্রচারণা হবে। সেসব বিবেচনায় নিলে বলা যায়-বুঝে ভোট দিতে পারবে না, সেটা বলা যায় না।

জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, আমাদের দলগুলোকে ক্যাম্পেইন করতে হবে। জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯ দফাতে গণভোট হয়েছে। ফলে এটা অসম্ভব হওয়ার কারণ নেই।

গণভোটের চারটি বিষয়-

১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদ অনুযায়ী গঠন

২. দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন ও উচ্চকক্ষের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন

৩. নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণসহ ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন

৪. জুলাই সনদের অন্যান্য সংস্কার বাস্তবায়ন।