স্বর্গীয় ভূখণ্ড গুয়াম দ্বীপ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গুয়াম দ্বীপটি যেন, প্রকৃতির নিখুঁত উপহার। এটি মাইক্রোনেশিয়ার মারিয়ানা দ্বীপমালার অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীভূত ভূখণ্ড। গুয়ামের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অনন্য  ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বিখ্যাত। গুয়াম দ্বীপটি জাপান এবং ফিলিপাইনের মাঝামাঝি স্থানে। এটি কৌশলগত গুরুত্বে উজ্জ্বল এক রত্ন, যা কৌশলগত সামরিক ঘ্যাঁটিতে পরিণত করেছে। দ্বীপটি প্রায় ৫৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এবং জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার। গুয়ামে রয়েছে সাদা বালুর সমুদ্র সৈকত, নীল জলরাশি, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি। এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য শুধু ভূ-প্রকৃতিতে সীমাবদ্ধ নয়। এখানকার প্রাণিজগৎও বৈচিত্র্যময়। বেশিরভাগ প্রাণী মানুষের মাধ্যমে এখানে এসেছে। গুয়ামের সমুদ্রজীবন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রাচীনকালে গুয়ামে চামোরো জনগণের আবাসস্থল ছিল। যাদের সংস্কৃতি আজও দ্বীপে জীবন্ত। ১৫২১ সালে ফার্দিনান্দ ম্যাগেলানের অভিযানের পর এটি   স্পেনের অধীনে যায়। কিন্তু ১৮৯৮ সালে স্পেন-আমেরিকা যুদ্ধের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে। গুয়ামের অর্থনীতির মূল ভিত্তি পর্যটন এবং মার্কিন সামরিক ঘ্যাঁটি। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য এশিয়ান দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ভ্রমণ করেন। দ্বীপটির সামরিক গুরুত্ব অপরিসীম। গুয়ামের প্রাকৃতিক  সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি একে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।