দিনাজপুরে পুলিশি বাধায় জাপার কর্মী সমাবেশ পন্ড

পুলিশি বাধায় পন্ড হয়েছে দিনাজপুরে জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির কর্মী সম্মেলন। শেখ হাসিনার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক থ্রেট থাকায় এবং কর্মী সম্মেলন আয়োজনে প্রশাসনের অনুমতি না থাকার কথা উল্লেখ করে সম্মেলনে বাধা দিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ওই কর্মী সম্মেলন আয়োজন ছিল দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের ভাড়া নেওয়া মিলনায়তনে। সম্মেলনে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের সম্মেলন কক্ষে অবস্থান গ্রহণের আগমুহূর্তে তাদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। পরে কালীতলার দলীয় কার্যালয়ের সামনে পথসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ শফি রুবেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুলফিকার হোসেন।

মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, তিন-চার মাস ধরে জাতীয় পার্টিকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। যতই বাধা আসে পরেরবার বেশি লোক নিয়ে আমরা আসি। উত্তরবঙ্গ অচল করার ক্ষমতা আমাদের আছে। কিন্তু আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে চাই। যদি না নেয় আরেকবার ’৯১ হবে। জাতীয় পার্টি ডিসি অফিসে লাথি মেরেছে, ডিসির কলার ধরেছে। আমরা কাউকে পরোয়া করি না। আমরা রাজনীতি করি, জেল-জুলুমের জন্য প্রস্তুত। শান্তিপূর্ণ দল জাতীয় পার্টি। কিছু ছোট দল আমাদেও দোসর বলে। কারণ জাতীয় পার্টি ভোট করলে তাদের ভোটের হিসাব থাকবে না। দোসর বলে জাতীয় পার্টি ৪০ বছরের পুরাতন। আমরা ৯টি ভোট করেছি। ভালো ফল করেছি। তাই অনেকে ভোটের মাঠ, রাজনীতির মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। জাতীয় পার্টি ভোটের সময় গজিয়ে ওঠা দল নয়। জাতীয় পার্টি সরকারে ছিল বিরোধী দলেও ছিল।

জাতীয় পার্টি আবারও ক্ষমতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে ছাড়া কোনো সুষ্ঠ নির্বাচন হবে না। জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে জোর করে ভোট করা হলে সেই ভোট নিকৃষ্ট ভোট হবে। সংশ্লিষ্টরা শপথ ভঙ্গের জন্য দায়ী হবেন। সেই সরকার টিকবে না। সেই সরকারের পতন হবে। দেশে বারবার গণবিপ্লব হবে। বিপ্লব থেকে বাঁচতে জাতীয় পার্টিকে ভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন করেন, ভোটে অংশগ্রহণ করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে ৭৭-এর গণভোটে সেই সরকার ৯৮ পার্সেন্ট ভোট পেয়েছিল। ৭৯-তে গণভোট হয়েছিল, সেখানে অভিযোগ আছে। ৮৬-তে জামায়াত অংশগ্রহণ করেছিল, সেটা বিএনপি একতরফা বলে, বিএনপি ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ভোট করেছে। কোন দল কখন কোথায় একতরফা ভোটে অংশগ্রহণ করেনি। ৮৮-এর ভোটে আ স ম রব অংশগ্রহণ করেছে। আজকে জাতীয় পার্টি ভোটে অংশগ্রহণ করেছে, এজন্য জাতীয় পার্টিকে ভোটের মাঠ থেকে বাদ দেওয়ার যে হীন প্রক্রিয়া হচ্ছে এই হীন প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ক্ষতিকর, জাতির জন্য অশনিসংকেত। তিনি বহুত্ববাদের বাংলাদেশ গড়তে সবাই নিয়ে ফ্রি ফেয়ার ইলেকশনের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, জাতীয় পার্টি কর্মী সম্মেলন করার জন্য জেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করেছিল। কিন্তু সেখান থেকে তাদের অনুমতি প্রদান করা হয়নি। তাই আমরা তাদের প্রোগ্রাম করতে দিইনি।