৩ বাহিনীর সংশোধনী বিলে স্বাক্ষর করলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শনিবার সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সংশোধনী বিল ২০২৫-এ স্বাক্ষর করেছেন। সংসদে পাস হওয়ার পরই বিলগুলো আইনে পরিণত হলো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ শেয়ার করা পিপিপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জারদারি পাকিস্তান আর্মি (সংশোধনী) বিল ২০২৫, পাকিস্তান এয়ার ফোর্স (সংশোধনী) বিল ২০২৫ এবং পাকিস্তান নেভি (সংশোধনী) বিল ২০২৫—এই তিনটিতেই সম্মতি দিয়েছেন।

বিলগুলো উপস্থাপন করেন উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। চলতি সপ্তাহে সেগুলো জাতীয় পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই পাস হয়।

যে বিষয়ে সংশোধনী হলো

পাকিস্তান আর্মি (সংশোধনী) বিল অনুযায়ী, সেনাবাহিনী প্রধান পাঁচ বছরের জন্য একইসঙ্গে চিফ অব দ্য ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকেই ফিল্ড মার্শাল মুনিরের মেয়াদ নতুন করে গণনা শুরু হবে।

সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে ফিল্ড মার্শালের জন্য প্রযোজ্য বিধানসমূহ জেনারেল পদে উন্নীত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফেডারেল সরকার, সিডিএফ-এর সুপারিশক্রমে, লিখিত আদেশের মাধ্যমে ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ বা ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফকে সেনাপ্রধানের কিছু ক্ষমতা অর্পণ করতে পারবে।

বিলটিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দ্বৈত দায়িত্বের প্রথম প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর সেই তারিখ থেকেই বর্তমান সেনাপ্রধানের নতুন মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

ফেডারেল সরকার সিডিএফ-এর দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করবে—যার মধ্যে থাকবে বহুমাত্রিক সমন্বয়, কাঠামোগত সংস্কার এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথতা নিশ্চিতকরণ।

বিলের একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তন হলো—চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর জায়গায় তৈরি করা হয়েছে কমান্ডার অব ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড পদ। সেনাপ্রধান/সিডিএফের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনী থেকে একজন কর্মরত জেনারেলকে তিন বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীই এই নিয়োগের শর্তাবলি নির্ধারণ করবেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়াতে পারবেন। এছাড়া, এই নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা মেয়াদবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কোনো আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

পাকিস্তান এয়ার ফোর্স (সংশোধনী) বিল ২০২৫-এ ১৯৫৩ সালের আইন থেকে ১০ডি, ১০ই ও ১০এফ ধারাগুলো বাতিল করা হয়েছে—যেগুলো বিমানবাহিনী প্রধানের সিজেসিসি হিসেবে নিয়োগ, মেয়াদ ও অবসর সংক্রান্ত বিধান ছিল। আইনের অন্যান্য অংশ থেকেও সিজেসিসি-সংক্রান্ত সব উল্লেখ বাদ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে পাকিস্তান নেভি (সংশোধনী) বিল ২০২৫-এ ১৪ডি, ১৪ই ও ১৪এফ ধারাগুলো বাতিল করা হয়েছে—যেগুলো নৌবাহিনী প্রধানের সিজেসিসি হিসেবে নিয়োগ ও মেয়াদ সংশ্লিষ্ট ছিল। আইনটির অন্যান্য অংশ থেকেও এ সংক্রান্ত উল্লেখ মুছে ফেলা হয়েছে।