ফিলিপাইনে তিন দিনের বৃহত্তর গণবিক্ষোভ

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দুর্নীতির অভিযোগের ঘটনায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারে জবাবদিহি দাবি করেছে। তিন দিনব্যাপী এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম—যেখানে হাজারো প্রকল্প নিম্নমানের উপকরণে নির্মিত হয়েছে বা বাস্তবেই ছিল না।
 
রবিবার (১৬ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া সমাবেশে শুধু ইগলেসিয়া নি ক্রিস্তো গির্জারই প্রায় সাতাশ হাজার অনুসারী রিজাল পার্কে জড়ো হয়। তাদের সঙ্গে পরে আরও বিভিন্ন সংগঠন কোয়েজন শহরের ‘পিপল পাওয়ার মনুমেন্টে’আলাদা বিক্ষোভে অংশ নেয়।

গেল কয়েক সপ্তাহে প্রবল ঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর আবারও জনরোষ বেড়েছে। তদন্তে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ঘনিষ্ঠজনসহ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে দেশের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১১৮.৫ বিলিয়ন পেসো। ইতোমধ্যে দুর্নীতি মামলায় সাতত্রিশ জন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে; কর ফাঁকির অভিযোগে আরও ছিয়াশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং নয় সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমান সেনেট সভাপতি চিজ এসকুদেরো, সাবেক স্পিকার ও মার্কোসের চাচাতো ভাই মার্টিন রোমুয়ালদেজ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতের্তের ঘনিষ্ঠ সেনেটর বং গো রয়েছেন। সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মার্কোস বলেছেন, প্রমাণ না থাকায় তার ভাইপোর বিরুদ্ধে এখনই মামলা হচ্ছে না, তবে “তদন্ত থেকে কেউই ছাড় পাবে না”।

এদিকে কিছু গোষ্ঠী সেনাবাহিনীকে সরকারের সমর্থন প্রত্যাহারের আহ্বান জানালেও ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন—সংবিধান–বহির্ভূত কোনো পদক্ষেপে সামরিক বাহিনী যাবে না এবং শান্তি ও গণতান্ত্রিক স্থিতি রক্ষায় তারা অটল থাকবে।