প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিল ২৮ হাজার ৩৪১ জন শিক্ষার্থী। আবেদনকারীদের মধ্যে ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে ১২৩৬ জনের। এদের মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৯৩ জন এবং নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২ জন শিক্ষার্থী।
গত ১৬ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর টেলিটক সিমের মাধ্যমে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছিল শিক্ষার্থীরা। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করে পরিবর্তিত এই ফলাফল রবিবার প্রকাশ করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড।
পরিবর্তিত ফলাফল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবার অনেক বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। একইসাথে অনেকে একাধিক বিষয়ে আবেদন করেছে। তাদের আবেদনের কারণে এবার ১ লাখ ১০ হাজার ২২৯টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ করতে হয়েছে। আর এতে ফলাফল পরিবর্তনও বেশি হয়েছে।’
কিন্তু ফেল থেকে পাসের সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। এর কারণ কি? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনেক উত্তর অমূল্যায়িত ছিল। এতে পুনঃনিরীক্ষণ করতে গিয়ে এসব উত্তরপত্র মূল্যায়ণ করতে হয়েছে এবং নম্বর বেড়েছে। ফলে পাসের সংখ্যা বেড়েছে।’
তাহলে কি শিক্ষকরা উত্তরপত্র সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করেনি? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষক এবার সৃজনশীল প্রশ্নের চারটি প্রশ্নের মধ্যে সবগুলো উত্তর মূল্যায়ণ করেনি। আবার কোনো কোনো শিক্ষকের প্রাপ্ত নম্বর গণনায় ভুল হয়েছে। আমরা এসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করব।
প্রতিবছর পাবলিক পরীক্ষা শেষে কোনো শিক্ষার্থী যদি মনে করে সে কোনো বিষয়ে প্রত্যাশার চেয়ে কম জিপিএ পেয়েছে তাহলে সংশ্লিষ্ট বিষয় পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ রেখেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। আবেদনকৃত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রের প্রাপ্ত নম্বরের গণনায়, বৃত্ত ভরাটে ভুল কিংবা উত্তরপত্র অমূল্যায়িত থাকায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে পরিবর্তন আসে এবং জিপিএ পরিবর্তন হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ।