চিলিতে দ্বিতীয় দফায় ভোটযুদ্ধ

চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াচ্ছে। রবিবারের (১৬ নভেম্বর) প্রথম দফা ভোটে কোনও প্রার্থীই পরিষ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় আগামী চোদ্দ ডিসেম্বর মুখোমুখি হবেন ক্ষমতাসীন জোটের কমিউনিস্ট পার্টির জ্যানেট জারা ও অতি-ডানপন্থী প্রার্থী হোসে আন্তোনিও কাস্ত।

এবারের প্রচারজুড়ে প্রধান ইস্যু ছিল অভিবাসন ও অপরাধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসী বেড়ে যাওয়ায় প্রার্থীরা ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের মতো বিদেশি অপরাধচক্র দমনের প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন জারা, তবে একাধিক ডানপন্থী প্রার্থীর কারণে ভোট ভাগ হওয়ায় কাস্তের সুযোগ বেড়েছে। দ্বিতীয় দফায় কেন্দ্র-ডানপন্থী এভেলিন মাতেই ও লিবার্টারিয়ান জোহানেস কাইজারের সমর্থকরাই কাস্তকে এগিয়ে দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তা হলে লাতিন আমেরিকায় ডানমুখী প্রবণতায় চিলিও যুক্ত হবে। 

কাস্ত—আইনজীবী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান—২০২১ সালের রানঅফে গ্যাব্রিয়েল বোরিচের কাছে হেরেছিলেন। তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হয়ে তিনি কঠোর অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, সীমান্তে ‘ট্রাম্প-ধাঁচের দেয়াল’, গর্ভপাত বিরোধিতা এবং রাষ্ট্রের আকার ছোট করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তার পরিবার পিনোশে শাসনামল এবং নাৎসি ইতিহাসের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।

অন্যদিকে, কমিউনিস্ট পার্টির হলেও জারাকে কার্যত কেন্দ্র-বামমুখী বলে মনে করেন অনেকে। বোরিচ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী তিনি। লিথিয়াম উৎপাদন বাড়ানো, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, নতুন কারাগার নির্মাণ এবং সীমান্ত সুরক্ষায় সেনা মোতায়েন—এসব তার প্রধান অঙ্গীকার।

চিলিতে অপরাধ ও অপহরণ বাড়তে থাকায় দুই প্রার্থীই নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সরকারি হিসেবে দেশটিতে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা এক দশমিক নয় মিলিয়ন ছাড়িয়েছে; অন্তত তিন লাখ ত্রিশ হাজার মানুষ অবৈধভাবে বসবাস করছে বলে অনুমান।

কাস্ত বাড়তি অপরাধের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেও গবেষণায় দেখা গেছে, বিদেশিতে জন্ম নেওয়া মানুষ গড়ে কম অপরাধ করে। তবুও তিনি উত্তর সীমান্তে খাল খনন, ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান এবং এল সালভাদরের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জারাও বিদেশি মাদককারবারিদের বহিষ্কার এবং নতুন কারাগার তৈরির পক্ষে।

প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ও বাধ্যতামূলক ভোটের আওতায় অনুষ্ঠিত হলো এবারের নির্বাচন।