আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ রবিবার (১৬ নভেম্বর) ও আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাব ফেলেছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ককটেল বিস্ফোরণ, পেট্রোল বোমা এবং যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ভীতি দেখা দিয়েছে। শিশুদের স্কুল-কলেজে পাঠাতে অনেকে ভীতিসহকারে চিন্তিত। অনেক বিদ্যালয়ে আজ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল বার্ষিক পরীক্ষা, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা না করলেও শিক্ষার্থীদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, রবিবার ও সোমবারের সব পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকবে এবং ক্লাসের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সভাপতি ও ডিনরা সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজনে অনলাইনে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রোববার পরিবহন সেবা বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি অনুযায়ী নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা জোরদার করতে আদালত ও আদালত এলাকার আশেপাশে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কড়া পাহারা দিচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকার প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধের জন্য টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচির প্রভাব রাজধানীসহ অন্যান্য জেলা ও শহরে পড়েছে। গত দুই দিনে যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো নির্দেশ দেননি। ফলে অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকরা নিজ দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছেন।
কয়েকজন অভিভাবক জানিয়েছেন, স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাননি। শিক্ষকরা তাদের নিজস্ব বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে বলছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, স্কুল বন্ধ বা অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে নাশকতা এড়াতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।