'হ্যান্ডশেক' করলেন ভারত-পাকিস্তানের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী ক্রিকেটাররা

রাজনীতি কিংবা সীমান্ত উত্তেজনা দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ককে যতই তিক্ত করুক, ক্রিকেট মাঠে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ভারত ও পাকিস্তানের অন্ধ নারী ক্রিকেটাররা। রবিবার নিরপেক্ষ ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় মুখোমুখি হয়ে তাঁরা হাত মেলালেন, সৌহার্দ্য বিনিময় করলেন। অথচ ভারতের পুরুষ ক্রিকেটাররা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সাথে হাত মেলানো বন্ধ করে দিয়েছে।  

শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত বিশ্বের প্রথম অন্ধ নারীদের টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটিতে চোখের দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও খেলোয়াড়দের খেলাধুলার “দৃষ্টিভঙ্গি” ছিল অনন্য। রাজনৈতিক উত্তেজনার পরও খেলোয়াড়েরা মাঠে দেখালেন ক্রীড়া–স্পৃহা ও পারস্পরিক সম্মান।

পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে মে মাসের প্রাণঘাতী সামরিক সংঘর্ষের পর থেকেই মাঠের ভেতর ও বাইরে উত্তেজনা তুঙ্গে। এশিয়া কাপে ভারতীয় পুরুষ দল পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচের পর হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সেই রেশ ছড়িয়েছিল নারী দল ও অন্য ম্যাচগুলোতেও।

তবে রবিবার ভিন্ন ছবি দেখা গেল অন্ধ নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচে। টসের পর দুই দল হাত মেলাননি ঠিকই, কিন্তু ম্যাচ শেষে ভারত–পাকিস্তান খেলোয়াড়রা উষ্ণ অভিবাদনে একে অন্যকে স্বাগত জানান। একই বাসে স্টেডিয়ামে যাওয়া দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাচ শেষে সৌহার্দ্য বিনিময়ের এই দৃশ্য নজর কাড়ে সবার।

কাতুনায়াকের ফ্রি ট্রেড জোন মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তান ২০ ওভারে ১৩৫ রান তোলে ৮ উইকেটে। জবাবে ভারত মাত্র ১০.২ ওভারে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয়। এরপর পাকিস্তান অধিনায়ক নিমরা রফিক ভারতের জয়ের প্রশংসা করেন, আর ভারতীয় অধিনায়ক টি. সি. দিপিকা জানান—পাকিস্তানও ভালো খেলেছে।

খেলোয়াড়দের সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। দর্শকও ছিল খুব কম, তবে ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রূপাভাহিনী। শ্রীলঙ্কার অন্ধ কর্মকর্তা ও সংগঠকরা ইউটিউবে ধারাভাষ্য শুনে ম্যাচ “দেখেন”।

ম্যাচের আগে ভারত দলের ম্যানেজার শিখা শেঠি বলেছিলেন, এই টুর্নামেন্ট অন্ধ নারীদের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করছে।
“এটা অন্ধ নারীদের প্রথম বিশ্বকাপ। আমাদের অসংখ্য মেয়ের জন্য এটি বড় সুযোগ। হয়তো অনেক প্রতিবন্ধী মেয়ে গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসবে—পড়াশোনায়, খেলাধুলায় অংশ নিতে।”

অন্ধ ক্রিকেট মূলত শ্রবণেন্দ্রিয়ের ওপর নির্ভরশীল। বলটি সাদা প্লাস্টিকের, টেনিস বলের আকারের, ভেতরে বল বিয়ারিং থাকায় নাড়ালে শব্দ হয়—সেই শব্দ শুনেই ব্যাটার–ফিল্ডাররা খেলা চালান।

ম্যাচের আগে পাকিস্তান কোচ তাহির মেহমুদ বাট বলেন, অন্ধ নারীদের ক্রিকেট চালু হওয়ায় পাকিস্তানেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
“যারা পুরোপুরি দৃষ্টিহীন, তাদের শ্রবণ শক্তি ভালো হলে তারা ভালো ক্রিকেটার হতে পারে।”

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি দলে কমপক্ষে চারজন সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন খেলোয়াড় থাকতে হয়; তিনজন সীমিতভাবে দু’মিটার পর্যন্ত দেখতে পারেন, আর বাকি চারজন আংশিক দৃষ্টিসম্পন্ন, যারা প্রায় ছয় মিটার দূর পর্যন্ত দেখতে সক্ষম। পুরোপুরি দৃষ্টিহীন ব্যাটারদের রানিংয়ে সাহায্য করতে পারেন আংশিক দৃষ্টিসম্পন্ন রানার। বোলিং হয় আন্ডারআর্ম পদ্ধতিতে।

ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে এই টুর্নামেন্টে। ভারতের পর্ব শেষ করে টুর্নামেন্টটি এখন শ্রীলঙ্কায় চলছে। আগামী রবিবার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।