কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির দু'পক্ষের সংঘর্ষ 

কুমিল্লা–৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী এবং মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল চারটার দিকে নগরের গোয়ালপট্রি ও চকবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৩ নভেম্বর কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনিরুল হক চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর মনোনয়ন বঞ্চিত ইয়াছিনের অনুসারীরা মনোনয়নের দাবিতে টানা নানা কর্মসূচি চালাচ্ছেন। সোমবার বিকেলে মনিরুল হক চৌধুরীর পূর্বঘোষিত নির্বাচনী পদযাত্রা গোয়ালপট্রি এলাকায় আসার কয়েক মিনিট আগে ঋষিপট্রি এলাকায় ইয়াছিনপন্থী ও মনিরুলপন্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়ায়। নিক্ষেপ করা হয় ইটপাটকেল ও ককটেল। পরে ইয়াছিনের অনুসারীরা নিরাপদ স্থানে চলে যান।

এ সময় বিএনপির সাবেক মেয়র ও নগর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মো. মনিরুল হক সাক্কুসহ তার অনুসারীরাও ঘটনাস্থলে যান। তার পরপরই ধানের শীষের পক্ষে শোডাউনে যোগ দিতে সেখানে যান বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম ও মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু। তারা পথসভার মাধ্যমে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালান।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী রাজগঞ্জ, মোগলটুলী ও ঈদগাহ এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং শোভাযাত্রা নিয়ে পুলিশ লাইন এলাকার দিকে চলে যান।

ঘটনা সম্পর্কে মনিরুল হক চৌধুরীর দাবি, ‘ধানের শীষের বিপক্ষে কারা এই কাজ করেছে, কুমিল্লা–৬ আসনের মানুষ জানেন। সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে এক হওয়ার আহ্বান জানাই।’

অন্যদিকে, মনোনয়ন বঞ্চিত আমিন–উর–রশিদ ইয়াছিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’