সরকারি জমি দখল করে ইটা-বালুর ব্যবসা ও ক্লাব নির্মাণ

''এখানে ক্লাব এবং আমার ব্যক্তিগত একটি ইটা-পাথরের গদি আছে, এগুলো আমরা নিজেরাই দখল করে ব্যবহার করছি, সরকারের থেকে কোন লীজ নেওয়া নাই, আমার কাউকে ভাড়াও দিতে হয় না।'' কথা গুলো বলছিলেন শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান। যিনি সরকারি জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবারও দোকান ও রাজনৈতিক কার্যালয় নির্মাণ করে প্রভাব বিস্তার করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখলে রেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় বুড়িগঙ্গা সেতুর নিচের সরকারি জমি দখল করে রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন স্থানীয় বিএনপির একাধিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

সেতুর নিচে টিনশেড ঘর তুলে গড়ে তোলা হয়েছে দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট শ্রমিকদলের শুভাঢ্যা ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ডের কার্যালয়। এর পাশেই সেতুর নিচে ইট সুরকি দিয়ে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে তাঁতীদলের কার্যালয়। এছাড়াও এখানে গড়ে তোলা হয়েছে দোকান, গ্যারেজ, ট্রাক স্ট্যান্ড এবং ইট-বালুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয়রা জানান, এসব সরকারি জমি রাজনৈতিক প্রভাবে দখল করে ভোগ করছেন একাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মী, দোকানগুলো থেকে এই নেতাকর্মীরা নিয়মিত চাঁদাও নিচ্ছেন।

এসব দখলের রাজনীতি নিয়ে হাসনাবাদ এলাকার বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন দখল বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে ফিরে আসার শিক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে তার কিছুই হয় নি। দখল আগের মতোই আছে , চাঁদাবাজিও আগের মতোই হচ্ছে। শুধু একদল চলে গেছে আরেকদল এসে চাঁদা তুলছে। 

স্থানীয়রা আরো বলেন, হাসনাবাদের এই অংশে এখন প্রকাশ্য দখল ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে আছে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। যাদের মধ্যে আছেন- তাঁতীদলের থানা সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন রনি, শ্রমিকদলের ওয়ার্ড সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান।
 
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ শাখা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন রনিও অকপটে স্বীকার করেন সেতুর নিচে ইটের পাথরের ঘর করে তাঁতীদলের রাজনৈতিক কার্যালয় নির্মাণ করার কথা। তিনি বলেন, এখানে আরো অনেক নেতার ক্লাব আছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। যদি প্রশ্ন করতে হয় তাদেরও করা হোক।  

তিনি আরো জানান, দেখভালের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারাও নিয়মিত মাসোয়ারা পান এসব দোকান থেকে, তাই উচ্ছেদে এগিয়ে আসেনা কেউ।

সড়ক ও জনপথের উপ বিভাগীয় কার্যালয়ের পাশেই সরকারি জমি দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (কেরানীগঞ্জ) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, এর আগেও এখানে উচ্ছেদ অভিযান করা হয়েছে, তখন স্থাপনা গুলো গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিলো। অনুমতি ব্যতীত সরকারি জমি ভোগ দখল করার কোন সুযোগ নাই, শীঘ্রই আবার উচ্ছেদ অভিযান করা হবে জানান তিনি।