দিনাজপুর শহরে সাকসেস ভিশন নামে এক হায় হায় কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রায় দেড় হাজার কর্মীর ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করেছে। ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহরের পাটুয়াপাড়া এলাকার মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. রিপন (৪৫)। এর আগে ভুক্তভোগীরা দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ১ বছর পূর্বে দিনাজপুর শহরের পৌরসভার পশ্চিমে ভাই ভাই মঞ্জিলের ৩য় তলায় একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে সাকসেস ভিশন নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন ৩ ব্যক্তি। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার বেড়াবাড়ী মহনপুর গ্রামের মাহাতাব আলী সরকারের ছেলে মো. রাকাত আলী পলাশ প্রিন্স, একই এলাকার মাহাবুব রহমান (৪৬) ও দিনাজপুর শহরের দপ্তরী পাড়ার মৃত শরীক উদ্দিনের ছেলে মোস্তফা কামাল আপন (৪৮) শহরের নিরীহ নারীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়। কোম্পানিতে মো. রাকাত আলী পলাশ এমডি ও মাহাবুব রহমান ও মোস্তফা কামাল আপন পার্টনারশিপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরবর্তীতে কর্মীদের নিকট থেকে এজেন্সি হিসেবে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা, ডিলার ২ থেকে ৩ লাখ টাকা, সাব ডিলার ১ থেকে ২ লাখ টাকা, সাধারণ কর্মী হিসেবে ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করে। এভাবে দিনের পর দিন সকল কর্মীদের নিকট থেকে বিভিন্ন সুবিধা ও অর্থের লোভ দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে টাকা আদায় করতে থাকে। গত ১৬ নভেম্বর থেকে কোম্পানির এমডি ও কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানির কর্মী মনিরা খাতুন ৪ লাখ টাকাম জিনাত আলী দেড় লাখ টাকা, সহিনুর ১ লাখ টাকা, হুসান আরা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, মুস্তানিম ৫ লাখ টাকা, বিশ্বজিৎ ৭০ হাজার, আনিকা খাতুন ৫০ হাজার টাকা, জাকিয়া সুলতানা ৮৫ হাজার টাকা, শান্ত ৭ লাখ টাকা, রিপন ৭৫ হাজার টাকা, শতাধিক কর্মীসহ প্রায় দেড় হাজার সদস্যের কাছ থেকে ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা বিভিন্ন সময় নেয় কোম্পানি।
ভুক্তভোগী মনিরা খাতুন বলেন, আমি ঋণ ও ধানদেনা করে তাদের টাকা দিয়েছি। এখন কোম্পানি লোকজন কোম্পানি বন্ধ করে পালিয়ে গেছে। আমি তো এখন পথে বসার মত অবস্থায় হয়ে গেছে । আমি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
ভুক্ত ভোগী রিপন বলেন, আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি। তার কোম্পানির এমপি ও অন্যান্য পার্টনারদের মোবাইল চালু রয়েছে। পুলিশ তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিয়ে আমাদের আদালতে মামলা করার জন্য বলছে। আমাদের সর্বস্ব টাকা কোম্পানিতে নিয়ে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. রাকাত আলী পলাশ বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটি ১ বছর ধরে পরিচালনা করছি। এসময় কর্মী ও সদস্যদের নিয়মিত তাদের মুনাফা দিয়েছি। কিন্তু কয়েক মাস ধরে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আমাদের ফোন দিয়ে চাঁদা দাবী করে হুমকি-ধামকি প্রদান করছে।
এরই মধ্যে একবার আমার অফিসে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। পরে বাড়ীর মালিকের মেয়ের সহযোগিতায় তাদের ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করা হয়। গত ১৬ নভেম্বর আমাকে ফোন দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে ফোনে হুমকি দেয়। এই কারণে আমি অফিসে যাওয়া বন্ধ করেছি। অক্টোবর মাস পর্যন্ত সদস্য ও কর্মীদের মুনাফার টাকা দেয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসে দেয়া হয়নি।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে একটি অভিযোগ দিয়েছে। যেহেতু এটি আর্থিক বিষয়, তাই আমরা ভুক্তভোগীদের আদালতে মামলা করার জন্য বলেছি। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ আমরা তদন্ত করছি।