বাঁশখালীতে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। 

ফলে মনোনয়ন বঞ্চিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাঁশখালীর আলোচিত গন্ডামারার চেয়ারম্যান মোঃ লেয়াকত আলীর কর্মী–সমর্থকরা প্রতিরাতের মশাল মিছিল শেষে আগামী ২২ নভেম্বর শনিবার বেলা দুইটায় বাঁশখালী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর একই মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মরহুম আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত মরহুমের কনিষ্ঠ পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা) স্মরণসভা ও নির্বাচনী শোডাউন করেছিলেন। 

সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া এবং জেলার অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার জন্য মাঠে ময়দানে ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী মহসিন, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গন্ডামারার চেয়ারম্যান মোঃ লেয়াকত আলী, জেলা পিপি এডভোকেট আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক, সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মরহুম আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর বড় পুত্র জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, কনিষ্ঠ পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা) এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিকসহ সাতজন।

দলের মনোনয়ন বোর্ড সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর কনিষ্ঠ পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার মনোনয়ন নিশ্চিত করলে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও দলের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানালেন। তবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গন্ডামারার চেয়ারম্যান আলোচিত মোঃ লেয়াকত আলী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক মনোনয়ন না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ অবস্থায় থাকেন। চেয়ারম্যান লেয়াকত আলীর পক্ষে প্রতিটি ইউনিয়নে মশাল মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি নেওয়া হবে। তার ধারাবাহিকতায় আগামী ২২ নভেম্বর শনিবার বেলা দুইটায় বাঁশখালী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানান, “সারাজীবন দলের জন্য জেল–জুলুমের শিকার হয়েছি। কিন্তু মনোনয়নের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্র মানা হচ্ছে। আমাকে না দিলেও চেয়ারম্যান মোঃ লেয়াকত আলী অনেকবার জেল–জুলুমের শিকার হয়েছেন। দলের জন্য তাকে মনোনয়ন দিলে দলই লাভবান হতো।”

এদিকে দলের মনোনয়ন এবং শনিবারের মহাসমাবেশের বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও গন্ডামারার চেয়ারম্যান মোঃ লেয়াকত আলী বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ১৭ বছর ধরে অসংখ্যবার জেল–জুলুমের শিকার হয়ে কারাগারে দিন পেরিয়েছে আমার। রাজপথে আন্দোলন ও সংগ্রামে আমার সমর্থক কর্মীরা সর্বদা মাঠে ছিল। আজ আমাকে মনোনয়ন বঞ্চিত করাতে কর্মী–সমর্থকরা প্রতিরাতে মশাল মিছিল ও বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের মাধ্যমে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে আমার আগামী রাজনীতি সম্পর্কে।”

উল্লেখ্য, বিগত ১২ বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালীতে ৫ বার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী, ৫ বার আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং দুইবার জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত হন চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। এরপর চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বাঁশখালীর ইতিহাসে প্রথম বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিগত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় জয়ের মুখ দেখেননি। যদি এবারের নির্বাচনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মাঠে থাকেন এবং ঐক্যহীনভাবে নির্বাচন হয়, তাহলে তাদের জয় পাওয়া সহজ হবে না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মীরা জানিয়েছেন।