৪১ বছর পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনুভব করছি বলে মন্তব্য করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে আজ থেকে ৪১ বছর আগে বাংলাদেশ জামায়াতি ইসলামের পক্ষ থেকে নিদলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই জাতি অনেক পানি ঘোলা করছে, অনেক অসম্মমান হয়েছে, অনেক মানুষের জীবন গেছে। গুম, খুন, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। এরপর ৪১ বছর পরে সকলে মিলে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এ ঐতিহাসিক রায়ের পর এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ডেমোক্রেসি ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এক অপরের সঙ্গে জড়িত। একটা থেকে আরেকটাকে আলাদা করা যাবে না। একটা পিলার ছাড়া যেমন ঘর দাঁড়িয়ে থাকা না। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট হলো এ রকম একটি পিলার এটাকে বাদ দিলে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। অবাধ নির্বাচন না হলেও ডেমোক্রেসিও সম্ভব নয়।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আজকে ৪১ বছর পর যে যাই বলুন কেন, যে যতটুকু ক্রেডিট নিতে চান না কেন। মূলত রাজনৈতিক দলের নেতাদের এই অদুরদর্শী আচারণের ফলেই জাতিকে যে খেসারত দিতে হয়েছে। আর এই বিষয়টা কনসিকুন্স আকারে আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা মনে করি নির্বাচনের ক্ষেত্রে জয় ও পরাজয় মেনে নেওয়ার মেন্টালিটি অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। এই ক্ষেত্রে ইফ, বাট, কিন্তু যোগ করার কোনো সুযোগ কোনো রাজনৈতিক দলের নেওয়া উচিত না। আমরা এটাও মনে করি আমরা যখন এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়ে ছিলাম আমরা ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ কোনো দলীয় স্বার্থের জন্য চাইনি। আমরা গণতন্ত্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেয়ে ছিলাম।
বাংলাদেশে এই পদ্ধতিটা আস্তে আস্তে গভীর ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। মাঝখানে অনেক হারিয়েছে ,অনেক অসুবিধা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্রে দিকে যাচ্ছি। পরবর্তী আমাদের সবার দায়িত্ব হবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা বলে যোগ করেন তিনি।
এই আইনজীবী বলেন, এখানও কোনো দলগত বিষয় নয়। জামাত কিংবা বিএনপি বা অন্য কোনো দলের বিষয় নয়। রাষ্ট্রের বিষয় সংবিধানের বিষয়। তাই আমরা আশা করি দেশটি গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।