কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে বিএনপির দুটি গ্রুপের কোনও কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন। সকাল থেকেই মাঠটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। ফলে নির্ধারিত জনসভা ও দোয়া মাহফিল—দুটি কর্মসূচিরই আয়োজন করতে পারেনি মাঠে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) কর্মসূচির সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।
টাউন হলে একই দিন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা-৬ আসনে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া মনিরুল হক চৌধুরী। এ দিকে একই স্থানে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের আরেক উপদেষ্টা আমিন-উর-রশিদ (ইয়াছিন)-এর অনুসারীরা। পাশাপাশি স্থানে মঞ্চ নির্মাণকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন মাঠে কোনও অনুষ্ঠানই অনুমোদন দেয়নি।
তবে বিকেল তিনটার দিকে দুই গ্রুপই পৃথক স্থানে কর্মসূচি পালন করেন। ইয়াছিনের অনুসারীরা কান্দিরপাড় ভিক্টোরিয়া কলেজ সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এবং মনিরুলের অনুসারীরা কান্দিরপাড়ের পূবালী চত্বরে গণ সমাবেশ করেন। দুই পক্ষের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা স্পষ্ট ছিল নেতা-কর্মীদের আচরণে।
পূবালী চত্বরে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কুমিল্লা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আমাকে দল মনোনয়ন দিয়েছে। কুমিল্লার উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে ধানের শীষে ভোট দিন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি তার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আরও বলেন, কুমিল্লা বিভাগ হবেই। নোয়াখালী না এলেও কুমিল্লাকেই কেন্দ্র করে বিভাগ হবে। ব্রিটিশ আমল থেকে কুমিল্লায় বিমানবন্দর ছিল, ধানের শীষকে বিজয়ী করতে পারলে বিমানবন্দর চালু হবে। তখন ঢাকা শহর কুমিল্লায় চলে আসবে।
গোমতী নদীর ওপর দ্রুত কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, তিন বছরের মধ্যে সাতটি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হলে রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু। দলের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, আমি বিএনপির পরীক্ষিত নেতা। আমি ভেসে আসা কেউ নই। কুমিল্লার মানুষের কল্যাণে জীবন দিয়েও লড়াই করে যাব। এখানকার মানুষ আমাকে বিশ্বাস করে, আমি তাদের প্রত্যাশা পূরণে শেষ পর্যন্ত কাজ করে যাব। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি এবং তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন।
টাউন হল মাঠ ছাড়া দুই স্থানে কর্মসূচি হলেও বৃহস্পতিবার কুমিল্লা শহরে বিএনপির দুই গ্রুপের শক্তি- প্রদর্শন ছিল নজরকাড়া। দুপক্ষই নিজের অনুসারীদের উপস্থিতি নিয়ে ছিল দৃঢ়, আর কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও ছাড় দিতে রাজি নয়-এ বার্তাই যেন উঠে এসেছে দিনের কর্মসূচিতে।