চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা। সমাবেশে কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে সরওয়ার জামাল নিজামকে বয়কট লেখা ফেস্টুন-ব্যানার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার নেতাকর্মী।
শুক্রবার বিকালে আনোয়ারা উপজেলার চায়না রোডের মোড় থেকে মিছিলটি বের হয়ে চাতরী চৌমুহনী চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এ কর্মসূচি চলাকালে সড়কের ওই অংশে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যত দ্রুত সম্ভব সরওয়ার জামাল নিজামের মনোনয়ন বাতিল করে সমস্যা সমাধান করা যাবে, ততই দলের জন্য মঙ্গল হবে। সরওয়ার নিজামকে বিশ্বাসঘাতক ও সুবিধাবাদী ব্যক্তি আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না। বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখেননি। পরিবার নিয়ে বিদেশে আরাম-আয়েশে ছিলেন। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে উপস্থিত হতেন না। সুসময়ে এসে তিনি বার বার অসৎ পন্থায় দলের মনোনয়ন ভাগিয়ে নেন। তার মনোনয়ন বাতিল করা না হলে আসনটি হারানোর আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা। তাই অচিরেই তার মনোনয়ন বাতিল করে দলের যেকোনো ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকে মনোয়ন দেওয়ার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন মো.রফিক, আবুল কাসেম, মোস্তাক আহমদ, জামাল হোসেন, জয়নাল আবেদীন, মুজিবুর রহমান, আবুল কালাম, সৈয়দ আহমদ, এরফানুর রহমান, মহিউদ্দিন, সাইফুদ্দিন দস্তসীর, শফিউল আলম ও মো. এরশাদসহ আরো অনেকে।
এ দাবিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন, কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে মশাল মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহসহ একাধিক কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত তিন নেতার অনুসারীরা। পরিস্থিতি ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে গত ১৩ নভেম্বর সরওয়ার জামাল নিজামের মনোয়ন প্রত্যাহার চেয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট লিখিত চিঠি দিয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির তিন নেতা। তারা হলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক আলী আব্বাস, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এসএম মামুন মিয়া।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরওয়ার জামাল নিজাম ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর দেশ ত্যাগ করেন এবং আওয়ামী ক্লিয়ারেন্সের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আমি-তুমি-ডামি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন। চিঠিতে তারা দাবি করেন, সরওয়ার জামাল নিজাম ইতিপূর্বে আওয়ামী নেতা ছিলেন এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জমান চৌধুরী বাবুর নৌকা প্রতীকের প্রধান এজেন্ট ছিলেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সরওয়ার জামাল নিজামের মতো স্বার্থপর, বেঈমান সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের বিএনপি মনোনীত করায় দলের দুঃসময়ের মজলুম নেতাকর্মীদের সাথে চরম অন্যায় ও অবিচার হয়েছে।