শুক্রবার সারাদেশে আঘাত হানা ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে গাজীপুরের কালীগঞ্জে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতের নাম সুজিৎ দাস (৩৮)। এ নিয়ে সারাদেশে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
কালীগঞ্জ ছাড়াও রাজধানী ঢাকাতে ৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন ও নরসিংদীতে ৫ জন মারা গেছেন। রাজধানীতে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (মিটফোর্ড) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিউল ইসলাম, হাজী আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২), মুগদায় মো. মাকসুদ (৫০), নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফাতেমা নামের ১০ মাসের শিশু, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আজকিতলা গ্রামের ফুরকান মিয়া (৪২), সদর উপজেলার গাবতলি এলাকার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৭), তার শিশু সন্তান ওমর মিয়া (১২) ও পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামের কাজম আলী (৭৫)।
জানা যায়, ভূমিকম্পের সময় উপজেলার চানখোলা এলাকার সুবুদের বাড়িতে গাছ কাটতে যান সুজিৎ। তিনি গাছের ওপর থাকার সময় ভূমিকম্প হয়। তাতে গাছ থেক পড়ে যান তিনি।
নিহত সুজিত নাগরী ইউনিয়নের আড়াগাও সুখ মোহনের ছেলে। গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ ডিবেনমার্সি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
সুজিৎ দাসের বড় ভাই রোহিত দাস এবং এলাকাবাসী জানায়, সুজিৎ গাছ কাটার সময় হঠাৎ ভূমিকম্পের ঘটনায় গাছ থেকে পানিতে পড়ে যায়। সেসময় তার পাশে কেউ ছিল না। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাশে নরসিংদী জেলার পলাশ ও মাদবদী ডাঙ্গা চরকা ফেক্টরির মাঝখানে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের উৎপত্তি।
এছাড়ও, ভূমিকম্পে কালীগঞ্জের খঞ্জনা জামে মসজিদের দুটি গম্বুজ ভেঙে কাত হয়ে গেছে, বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা গেছে।
নমনির্মিত সাদেরগাঁও চারতলা বিশিষ্ট স্কুলে বেশ কয়েকটি ফাঁটল দেখা গেছে। ভুমিকম্পের সময় পাঞ্জোরা গার্মেন্টসে আগুন লেগে যায়, তাড়াহুড়ো করে শ্রমিক বের হওয়ার সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়। পানজোরা আক্তারদের বাড়ির দেয়াল খসে পড়ে যায়। লুদুরিয়া গ্রামে একটি কাঁচা পাকা ঘর ভেঙে যায়। করান এলাকায় মাটি ফেঁটে বিভক্ত হয়ে গেছে।
তাছাড়া কালীগঞ্জের বাস্ট্যান্ডের উওর দিকে মোহাম্মদ আলী বাগমারের পরিত্যক্ত একটি মাটির ঘরে ফাটল ধরে, অপর দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের উওরগাঁও গ্রামের প্রায় ১০টি বাড়িতে ফাটল ধরেছে। উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পে সকল মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষ বলেন, জীবনে অনেক ভূমিকম্প অনুভব করেছি, কিন্তু আজকের মতো দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্প কখনো অনুভব করিনি।